মেক্সিকোয় বন্দুকধারীর হামলায় মা ও শিশুসহ নিহত ৯

0
143
হামলায় রোহনিতা মারিয়া মিলারের (৩০) সঙ্গে তাঁর আট মাস বয়সী যমজ সন্তান আলভিন মিলার, গ্রিসেল মিলার, মেয়ে ক্রিস্টাল বেলায়নি মিলার (১০) এবং ছেলে হোয়ার্ড জ্যাকব মিলার (১২) নিহত হয়। ছবি: মিলার পরিবারের সৌজন্যে

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে বন্দুকধারীদের হামলায় আমেরিকান মরমন সম্প্রদায়ের মা ও শিশু সন্তানসহ নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারী ও ছয়জন শিশু। এর মধ্যে একজন মা তাঁর চার সন্তানসহ নিহত হন। তাঁদের বহনকারী তিনটি গাড়িতে গুলিবর্ষণের পর আগুন ধরে গেলে সবাই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া ও সোনোরা রাজ্যের সীমান্তে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এলাকাটি দস্যুতা ও মাদক চোরাচালানের আখড়া হিসেবে কুখ্যাত।

নিহত ব্যক্তিদের এক স্বজন অভিযোগ করেন, মাদক চক্রের দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায়।

আজ বুধবার সিএনএনের খবরে বলা হয়, মেক্সিকো কর্তৃপক্ষের মতে, তিনটি যানবাহনে করে সোনোরা-চিহুয়াহুয়া যাতায়াতের সময় দুর্বৃত্তরা পরিবারটির ওপর হামলা চালিয়েছে।

নিহত ছয় শিশুর মধ্যে দুই শিশুর বয়স আট মাস। নিহত ব্যক্তিদের সবাই মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক। হামলায় বেঁচে গেছে আট শিশু।

অ্যালেক্স লেব্যারন নামে নিহত ব্যক্তিদের এক স্বজন মেক্সিকো থেকে জানান, তিনটি গাড়িকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়। গাড়িতে আগুন ধরে গেলে সবাই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান।

কেন্দ্রা লি মিলার নামে আরেক স্বজন জানান, হামলায় তাঁর ভাবি রোহনিতা মারিয়া মিলার ও তাঁর চার সন্তান মারা গেছে। তিনি বলেন, তাঁদের পরিবারের ওপর মাদক চক্রের হামলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। তারা পরিবারের বহু সদস্যকে আগেও হত্যা করেছে। সম্প্রতি তাঁর পরিবারকে মাদক চক্রের সদস্যরা হুমকি দিয়ে আসছিল। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা একসঙ্গে বেরিয়েছিলেন।

রোহনিতা মারিয়া মিলারের (৩০) সঙ্গে তাঁর আট মাস বয়সী যমজ সন্তান আলভিন মিলার, গ্রিসেল মিলার, মেয়ে ক্রিস্টাল বেলায়নি মিলার (১০) এবং ছেলে হোয়ার্ড জ্যাকব মিলার (১২) নিহত হয়েছে।

আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ি। ছবি: এএফপি

রোহনিতা সোনোরা লা মোরা থেকে তাঁর সাত সন্তানকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত তাঁর স্বামী হোয়ার্ড মিলারকে আনতে বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন। আগামী সপ্তাহে লা মোরাতে কেন্দ্রার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারটি একত্র হচ্ছিল।

দ্বিতীয় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ৪৩ বছর বয়সী দাওয়ানা রে লংফোর্ড।

দাওয়ানা তাঁর সন্তানদের নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে চিহুয়াহুয়াতে যাচ্ছিলেন। হামলায় তাঁর সঙ্গে তাঁর কিশোর সন্তান ত্রিভোরও নিহত হয়েছে।

তৃতীয় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ক্রিস্টিনা মারি লংফোর্ড জনসন। তিনি স্বামী ও বাকি সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন।

কেন্দ্রা জানান, স্বামীকে আনতে রোহনিতা সন্তানদেরসহ রওনা দেওয়ার পর তাঁর গাড়ির চাকা দেবে যায়। তিনি দুই নারীর সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে আবার লা মোরায় ফিরে আসেন এবং আরেকটি গাড়ি নিয়ে আবার রওনা দেন। তিনটি গাড়ি একসঙ্গে রওনা দেয়।

কেন্দ্রা জানান, তাঁর আরেক ভাই রোহনিতার চাকা দেবে যাওয়াটা গাড়িটি ঠিক করছিলেন। ওই সময় তিনি দূরে আগুন দেখতে পান। কিন্তু তিনি এই হামলার কথা চিন্তাও করেননি। পরে তিনি কাছে গিয়ে দেখেন গাড়ি বুলেটে ঝাঁজরা, আগুন জ্বলছে, কেউ গাড়ির বাইরে, কেউ ভেতরে পুড়ে মারা গেছে।

হামলায় বেঁচে যাওয়া ১৩ বছরের একটি ছেলে সাহায্যের জন্য ১৪ মাইল হেঁটে যায়। সে তার আহত রক্তাক্ত ভাইবোনকে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রেখে যায়।

আহত সাত শিশুকে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মরমন সম্প্রদায়ে তিন হাজারের মতো সদস্য আছেন। মেক্সিকোতে তাঁরা নিজেদের কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। সাধারণভাবে তাঁরা চরমপন্থী সম্প্রদায় হিসেবেই বসবাস করেন। কিছু সদস্য রয়েছেন, যাঁরা বহুগামী।

টিফানি লংফোর্ড বলেন, মতাদর্শে কিছু পার্থক্য থাকলেও আমরা একটি বড় পরিবার। আমাদের নিজস্ব ভাবনাচিন্তা যা–ই হোক না, আমরা একে অপরকে ভালোবাসি, সমর্থন করি। আমাদের মতো ভালোবাসা ও একতা অন্য কোনো পরিবারে কখনো দেখিনি।

হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোনোরা রাজ্যের গভর্নর ক্লাউদিয়া পাভলোভিচ আরেলানো টুইটে ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেন।
হামলার ঘটনাটি তদন্তে মেক্সিকোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনায় মাদক চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে মেক্সিকোকে আহ্বান জানান এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে