মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে ধারণ করা হয় ১৬ বছর বয়সী ইরানি নিকার ভিডিও

0
56
বিক্ষোভের পর নিখোঁজ হয় নিকা শাকারামি নামের ওই কিশোরী

ওই বিক্ষোভের কয়েক ঘণ্টা পর নিকা নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়ার আগে সে এক বন্ধুকে বলেছিল পুলিশ তাকে ধাওয়া করছে।

নিকার মা নাসরিন অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নির্মাণাধীন একটি ভবনের ওপর থেকে ফেলে দেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। নির্মাণ শ্রমিকেরা তাঁকে ফেলে দিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন তাঁরা।

গত সপ্তাহে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ঝাপসা ফুটেজে দেখা গেছে এক নারী একটি সরু গলি দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এবং একটি ভবনের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকছে। ওই ফুটেজে দেখা যাওয়া নারীকে নিকা বলে উল্লেখ করা হয়।

গতকাল সোমবার বিবিসি পার্সিয়ানকে নিকার মা নাসরিন বলেন, ওই ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে, সে তাঁর মেয়ে নয়। ওই পরিবারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্র বলেছে, ভিডিওতে যাকে দেখা গেছে তার হাঁটাচলার ধরনের সঙ্গে নিকার মিল নেই।

মা নাসরিন আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁর বোন আতাশ এবং ভাই মোহসেনকে আটকে রেখে তাঁদের কাছ থেকে জোর করে নিকার মৃত্যু সম্পর্কে মিথ্যা জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

নাসরিন বলেন, ‘তারা আমার ভাইয়ের চার বছর বয়সী সন্তানকে আটকের হুমকি দিয়েছিল।’

গত বুধবার রাতে টিভি শোতে দেখা গেছে, নিকার মামা মোহসেন চলমান বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। ক্যামেরার পেছন থেকে কেউ একজন তাঁকে এসব কথা বলতে চাপ দিচ্ছিলেন। আর নিকার খালা আতাশ বলছিলেন, তাঁর বোনের মেয়ে একটি ভবন থেকে পড়ে মারা গেছে। এসব জবানবন্দি দেওয়ার পর আতাশ ও মোহসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আতাশের ভাষ্য, রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যরা তাঁকে বলেছেন যে নিকা পাঁচ দিন ধরে তাঁদের হেফাজতে ছিল। পরে তাকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ইরানে পুলিশি হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভে মারা গেছে নিকার মতো আরও কয়েকজন কিশোরী।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর কারাজে বিক্ষোভ করার সময় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী সারিনা ইসমাইলজাদেহ নিহত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সারিনার মাথায় লাঠি দিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছিলেন।

এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর কারাজ শহরে বিক্ষোভ করার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা যান ২২ বছর বয়সী নারী হাদিস নাজাফি।

গতকাল ইরানিয়ান সোসাইটি ফর প্রটেকটিং দ্য রাইটস অব দ্য চাইল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২৮ জন শিশু-কিশোর মারা গেছে। আরও অনেক শিশুকে আটক রাখা হয়েছে।

হিজাব না পরে কঠোর পর্দাবিধি ভঙ্গ করার অভিযোগে ১৩ সেপ্টেম্বর ইরানের নীতি পুলিশ ২২ বছর বয়সী মাসাকে আটক করেছিল। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি কোমায় চলে যান। ১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাসার মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরে সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.