মুঠোফোনে প্রেম, অতঃপর…

0
374
মুঠোফোন

মুঠোফোনে পরিচয়। তারপর প্রেম। আগে কেউ কাউকে দেখেননি। একদিন দুজনের দেখা হয়। আলোচনার মধ্যে ছেলেটি মেয়েটিকে শরবত খেতে দেন। শরবত খেয়েই মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়েন। চেতনা ফিরলে মেয়েটি বুঝতে পারেন, তাঁকে ভারতে পাচার করা হয়েছে। ভারতে পাচারের শিকার শেরপুর জেলার এক তরুণীর (১৯) কাহিনি এটি।

দুই বছর পর আজ সোমবার বিকেলে যশোরের বেনাপোল তল্লাশিচৌকি (চেকপোস্ট) দিয়ে মেয়েটিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ সময় ওই তরুণীর সঙ্গে ভারত থেকে মৌলভীবাজার জেলার আরও এক তরুণীকেও দেশে ফেরত আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের মাধ্যমে তাঁদের ফেরত আনা হয়েছে।

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই দুই তরুণীকে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) কাছে আজ বিকেলে হস্তান্তর করে। বেনাপোল বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

শেরপুর জেলার ওই তরুণী বলেন, ‘২০১৬ সালে এক ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। কথা বলতে বলতে আমাদের মধ্যে প্রেম হয়। একদিন দুজন দেখা করি। ছেলেটির দেওয়া শরবত খেয়ে আমি অচেতন হয়ে পড়ি। চেতনা ফিরলে বুঝতে পারি আমি ভারতে। পরে জানলাম, ছেলেটি আমাকে ভারতে বিক্রি করে দিয়ে গেছে। কয়েক মাস পর ভারতের পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। এরপর আদালতের মাধ্যমে একটি মানবাধিকার সংস্থায় আশ্রয় পাই। দুই বছর পর দেশে ফিরতে পারলাম।’

মৌলভীবাজারের ওই তরুণী বলেন, ‘সাভারে একটি পাটকলে কাজ করতাম। সেখানে এক লোকের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আমাকে ভারতে ভালো কাজ দেওয়ার কথা বলেন। আমি রাজি হয়ে যাই। তখন অপর এক লোকের কাছে আমাকে দিয়ে ভারতের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। সেখানে গিয়ে বুঝতে পারি, আমাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে দেড় মাস থাকার পর ভারতের পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।’

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির যশোর কার্যালয়ের সমন্বয়ক আইনজীবী নসিমা খাতুন বলেন, দুই দেশের রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের পর দুই তরুণীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এরপর তাঁদের পরিবারের স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে