‘মিলেনিয়াম লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ পেলেন বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুম

0
49
মেরিনা তাবাশ্যুম, ছবি: সংগৃহীত

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাঁর প্রকল্পগুলোতে দৃঢ় ও স্বচ্ছ নৈতিক অবস্থান প্রকাশ পায়। এগুলোর নকশা সূক্ষ্ম ও পরিশীলিত। বাজেটে সীমাবদ্ধতা থাকার পরও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। প্রকল্পগুলোতে সব সময় সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট থাকে।

বিবৃতিতে তাবাশ্যুমের প্রশংসা করে বলা হয়, তিনি তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন স্থপতিরা কীভাবে জলবায়ুসংকটকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন এবং পরীক্ষামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক উপায়ে সমাজে পরিবর্তন আনতে পারেন।

লিসবনের এই পুরস্কারের বিষয়ে মেরিনা তাবাশ্যুম আজ শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেকোনো স্বীকৃতি ভালো লাগে। এটা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু কাজ তো চালিয়ে যেতে হবে। কাজ করে যাচ্ছি আমি।’ তিনি বলেন, ‘এসব অর্জনে দেশের নাম হয়। এটা খুব ভালো লাগে।’

আগামী ২২ সেপ্টেম্বর লিসবন আর্কিটেকচার ট্রায়েনেল শুরু হবে। আর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বিশেষ এক অনুষ্ঠানে তাবাশ্যুমের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

মেরিনা তাবাশ্যুম

মেরিনা তাবাশ্যুম
ছবি: সংগৃহীত

মেরিনার আগে যাঁরা মিলেনিয়াম লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন, তাঁরা হলেন কেনেথ ফ্রাম্পটন, ইভারো সিজা এবং ডেনিশ স্কট ব্রাউন।

এর আগে ২০২১ সালে মানবিক ঘর তৈরির জন্য যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ সন পদক পান মেরিনা। বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রথম স্থপতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশের এই স্থপতি। সে সময় সনের ওয়েবসাইটে বলা হয়, মেরিনা প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবন নকশা করার চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে নকশা স্থায়িত্বের চ্যালেঞ্জ নিতে পারে এবং গ্রহের ওপর আমাদের সামষ্টিক প্রভাব পড়ে। স্থপতি হিসেবে তিনি প্রশংসিত। এ ছাড়া তিনি নিজের সম্প্রদায়ের জন্য নিবেদিত শিক্ষক ও চ্যাম্পিয়ন।

২০২০ সালে ব্রিটিশ সাময়িকী ‘প্রসপেক্ট’–এর ৫০ চিন্তাবিদের মধ্যে শীর্ষ ১০ জনে স্থান করে নিয়েছিলেন মেরিনা। তিনি ১০ জনের মধ্যে তৃতীয় হন। সেখানে মেরিনা তাবাশ্যুম সম্পর্কে বলা হয়, ‘তিনি মনোনিবেশ করেছেন এক বাস্তব সমস্যার দিকে। আর সেটি হলো জলবায়ু পরিবর্তন। এর ফলে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে তার উপযোগী করে ঘরবাড়ি তৈরির নকশা করেছেন।’

ঢাকার দক্ষিণখানে বায়তুর রউফ নামের একটি শৈল্পিক নকশার মসজিদের জন্যও ২০১৮ সালে স্থপতি হিসেবে জামিল প্রাইজ পান মেরিনা তাবাশ্যুম। এর আগে একই নকশার জন্য ২০১৬ সালে তিনি সম্মানজনক আগা খান পুরস্কার পান। সুলতানি আমলের স্থাপত্যের আদলে নকশা করা এ মসজিদ ২০১২ সালে ঢাকায় নির্মিত হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.