মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর

0
309
আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দীকা মিন্নির জামিন আবেদন জজ আদালতেও নামঞ্জুর করা হয়েছে।

চার ঘণ্টা শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিকেলে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। এর আগে ২২ জুলাই বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছিলেন।

বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে গত ২৩ জুলাই মিন্নির পক্ষে জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলাম। ওইদিন আবেদন গ্রহণ করে ৩০ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল ১১টার দিকে আদালতে মিন্নির জামিন শুনানি শুরু হয়। প্রথমে মিন্নির পক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা পাল্টা যুক্তি দিয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উভয়পক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি চলে। দু’পক্ষের যুক্তিতর্কের পর দুপুর ১টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক হুমায়ুন কবিরকে মামলা-সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র ও নথি নিয়ে আদালতে তলব করেন বিচারক। দুপুর ২টার দিকে ফের আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার কী প্রমাণ আছে? তখন তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজ, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে মিন্নি রিফাত হত্যার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের তথ্য (কললিস্ট) আদালতে উপস্থাপন করেন। ল্যাপটপে ঘটনার ভিডিওটি দেখেন বিচারক। এ সময় মিন্নির আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন।

আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করেন- মিন্নি নয়ন বন্ডের সঙ্গে ফোনে কথা বলায় যদি তিনি মামলার আসামি হন, তাহলে যে পুলিশ কর্মকর্তা নয়ন বন্ডের সঙ্গে ৭৭ বার কথা বললেন, তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? এসব প্রশ্নের তিনি কোনো জবাব দেননি। এরপর বিকেল ৩টার দিকে বিচারক আয়শা সিদ্দীকা মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আদালতে মিন্নির পক্ষে এদিন শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলাম, গোলাম মোস্তফা কাদের, ঢাকা থেকে আসা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) আবদুর রশিদ, নীনা গোস্বামী, ব্লাস্টের শাহিদা তালুকদার, এ জেড এম শহিদুজ্জামান খান, রাকিব হাসান, সাগর সরকার, নুসরাত হত্যা মামলার আলোচিত আইনজীবী ফারুক আহম্মেদসহ ৩০ জন। অন্যদিকে বাদীপক্ষে পিপি ছাড়াও ছিলেন ৩০ জন আইনজীবী।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। যার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ওই ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দীকা মিন্নিকে। কিন্তু তার শ্বশুর মামলার ১৮ দিন পর গত ১৩ জুলাই এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নি জড়িত এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করার পর মামলাটির তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়। ১৬ জুলাই গ্রেফতার করা হয় মিন্নিকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে