মদ খাইয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

গ্রেফতার যুবক তিন দিনের রিমান্ডে

0
275
প্রতীকি

নাহিদ হোসেন পাটোয়ারী নামের এক যুবকের সঙ্গে এক বছর আগে পরিচয় হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর।

সেই থেকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ তাদের। এক পর্যায়ে একটি চাকরি প্রয়োজন বলে নাহিদকে জানিয়েছিলেন ওই তরুণী। সম্প্রতি নাহিদ তাকে মোবাইল ফোনে জানান, চাকরি ঠিক করা হয়েছে। এর পরই চাকরির মৌখিক পরীক্ষার কথা বলে গত মঙ্গলবার রাজধানীর শ্যামলীর একটি অফিসে মেয়েটিকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ধর্ষণের অভিযোগে বুধবার রাতে নাহিদ হোসেন পাটোয়ারীসহ দুই যুবকের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন ওই তরুণী। অপর আসামি হলেন– হেলথ ভিশন নামের একটি ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ফাহিম আহমেদ ফয়েজ (৩১)।

ফয়েজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হলে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাহিদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার আওগানখিলে এবং ফয়েজের বাড়ি নোয়াখালীর কবিরহাট থানার চন্দ্রসুন্ধি কালাগাজীতে। তবে নাহিদের বর্তমান বাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানে। ফয়েজের বাসা শ্যামলীর তিন নম্বর সড়কের ৩৫/১/বির পঞ্চমতলায়। এটি তার অফিস কাম বাসা। ‘হেলথ ভিশন’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তার। ওই অফিসেই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয় এই প্রতিষ্ঠান থেকে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুনশী বলেন, ‘ধর্ষণে অভিযুক্ত ফয়েজকে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরজন পলাতক আছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। মেয়েটিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ধর্ষণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয় তাকে।’

মেয়েটি জানিয়েছেন, হাজারীবাগ থানা এলাকায় বসবাস করেন তিনি। ধানমণ্ডির শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। নিজের চাকরির প্রয়োজনের কথা নাহিদকে জানিয়েছিলেন। মোবাইল ফোনে দেওয়া ঠিকানামতে, শ্যামলীর ৩ নম্বর সড়কে যান মঙ্গলবার বিকেলে। রাস্তা থেকে নাহিদ তাকে ৩৫/১/বির পঞ্চমতলায় ‘হেলথ ভিশন’-এর অফিসে নিয়ে যান। অফিসের ‘বস’ পরিচয়ে ফাহিম আহমেদ ফয়েজ তাকে চেয়ারে বসিয়ে চাকরি সংক্রান্ত মৌখিক প্রশ্ন করেন।

এক পর্যায়ে ফয়েজ ওয়াইন ও সিগারেটের প্রস্তাব দেন তাকে। এসব কখনও খান না বলে জানান তিনি। এর পরই কোমল পানীয় খেতে দেন। তাতে রেড ওয়াইন মেশানো ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। সরল বিশ্বাসে সেই কোমল পানীয় খাওয়ার পর নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তরুণী।

এ সময় প্রথমে ফয়েজ এবং পরে নাহিদ তাকে ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর জেগে উঠে দেখেন, তার চোখে-মুখে পানি। পানিতে পোশাকও ভিজে গেছে। নাহিদ ও ফয়েজ চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে তার জ্ঞান ফেরান বলে পরে জানতে পারেন তিনি। এরপর তারা তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করেন। তবে মেয়েটি তাদের হাত-পা ধরে অনুনয়-বিনয় করে সেখান থেকে বেরিয়ে বাসায় যান।

পুলিশ জানিয়েছে, পঞ্চমতলার ফ্ল্যাটটি পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলে ভাড়া নেন ফয়েজ। পাশাপাশি অফিস হিসেবেও ব্যবহার করেন। ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে নাহিদের সঙ্গে মেয়েটিকে ঢুকতে দেখা গেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে