মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বধ্যভূমির ফলকটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে

0
206
বধ্যভূমির একপাশে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, অন্যপাশে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট ও ভাগাড়। রাইনখোলা, মিরপুর, ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর।

বধ্যভূমিটিতে যেতে পার হতে হয় মানুষে গিজগিজ করা কয়েকটি গলি। ঠিক কোথায় বধ্যভূমিটি, তার দিকনির্দেশক কোথাও নেই। যাকে-তাকে জিজ্ঞাসা করেও লাভ নেই। বধ্যভূমিটির কথা জানেন শুধু এখানকার পুরোনো লোকজনই। মিরপুর-১ নম্বর সার্কেলের রাইনখোলা এলাকার ২৬ নম্বর সড়কের পাশেই মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বধ্যভূমিটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। রাজধানীতে থাকা বেশ কয়েকটি বধ্যভূমি বা গণকবরের একটি রাইনখোলা। ঘনবসতির এলাকা এই রাইনখোলা।

কয়েক বছর আগেও রাইনখোলায় বধ্যভূমিতে স্মৃতিফলক ছিল (ওপরে)। এখন সেখানে ফলক নেই—আছে ভাগাড় ও ঘরবাড়ি।

এক বছর আগেও এখানে একটি স্মৃতিফলক ছিল। এখন সেখানে আবর্জনার স্তূপ। বধ্যভূমির খোলা জায়গাটিতে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি। একপাশে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টে খেলছে শিশুরা।

কয়েকটি শিশুর সঙ্গে কথা হলো। অনেকে জানে এটি একটি বিশেষ স্থান, কিন্তু কেন বিশেষ তা তারা জানে না। কিশোর মুন্না বলল, ‘এইখানে একটা শহীদ মিনার ছিল। এই জায়গা পরিষ্কার করার কথা বইলা বুলডোজার দিয়া সেইটা ভাইঙা ফেলছে। কইছিল আবার বড় কইরা দিব। কিন্তু আর করে নাই। ’

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন শিকদার বললেন, ‘বধ্যভূমিটা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমরা ব্যক্তি উদ্যোগে একটি ফলক তৈরি করেছিলাম। কিন্তু কে বা কারা যেন রাতের অন্ধকারে ভেঙে ফেলল আমরা তার হদিস পাইনি। এটা সংস্কার করতে আমরা অনেকবার উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমরাও করতে পারিনি।’ তিনি আশা করেন, বর্তমান সরকার এটির দিকে নজর দেবে এবং বধ্যভূমিটিকে একটি স্মৃতিসৌধে রূপান্তর করবে।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মুনতাসীর মামুন বললেন, ‘ঢাকা শহরের একটি অন্যতম বধ্যভূমি রাইনখোলা। মিরপুরে আরও ৮-১০টি বধ্যভূমি আছে। আমার জানা মতে, অধিকাংশই এখন বেদখল হয়ে গেছে। বধ্যভূমির কোনো চিহ্ন নেই। এটা শুধু রাইনখোলার ব্যাপার নয়, সারা বাংলাদেশেই এই পরিস্থিতি। কোনো হিসাব নেই, সংরক্ষণ নেই।’

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন আরও বলেন, ‘আমরা একটা রিট করেছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট আদেশ দিয়েছেন, সরকারকে এই সমস্ত কিছু সংরক্ষণ করতে হবে। সরকারের উচিত সুনির্দিষ্টভাবে অফিস আদেশ জারি করে এগুলোকে দখলমুক্ত করা। তারপর প্রতিটি বধ্যভূমিতে ফলক লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।’

বধ্যভূমির এমন দশা প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। আমি দ্রুত এটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেব।’

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর হলেও সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়েছে রাজাকারদের প্রাথমিক তালিকা। মুনতাসীর মামুনসহ অনেকেই মনে করেন একইভাবে সারা দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের বধ্যভূমিগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে