ভুয়া ওষুধ দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিল চক্র

0
47
‘সুইসড্রাম কোম্পানির ’গ্রেপ্তার ১৭ জন।

‘এস-ফ্যাক্টর’-সর্ব রোগের মহৌষধ। ক্যানসার, ডায়বেটিস থেকে হার্টের রোগ, এমনকি করোনা প্রতিরোধেও কাজ করবে এ ওষুধ! এমন কথা বলে দেশজুড়ে তা বিক্রির দায়িত্ব দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। বহু স্তর বিপণন ব্যবস্থার (এমএলএম) মাধ্যমে এভাবেই মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই চক্র ‘সুইসড্রাম কোম্পানি’।

প্রতিষ্ঠানটির মালিকসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য বেরিয়ে আসে। গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত র্যােব-৪ এর একটি দল রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব বলছে, এই প্রতারক চক্র দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেকার ও অস্বচ্ছল তরুণ-তরুণীদের স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সদস্য হতে টাকা আদায় করতো। সেই টাকার বিনিময়ে দায়িত্ব দেওয়া হতো ভুয়া ওষুধ বিক্রির। এদের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছে শিক্ষিত বেকার থেকে শুরু করে নানা স্তরের মানুষ। অধিক মুনাফা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তারা কাউকে প্লাটিনাম, গোল্ড, সিলভার ও সাধারণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

র‌্যাব-৪ এর কর্মকর্তারা জানান, সুইসড্রাম কোম্পানি তাদের নতুন সদস্যদের পাঁচটি ক্যাটাগরির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করতো। প্রথম ও দ্বিতীয় ক্যাটাগরির সদস্যদের কাছ থেকে চার হাজার ২০০ টাকা থেকে ছয় হাজার ২০০ টাকার বিনিময়ে এক প্যাকেট এস-ফ্যাক্টর ওষুধ, তৃতীয় ও চতুর্থ ক্যাটাগরিতে ২৬ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৫৮ হাজার টাকা নিয়ে ছয় থেকে ১৪ প্যাকেট এবং পঞ্চম ক্যাটাগরিতে এক লাখ ১৭ হাজার টাকা নিয়ে ২৮ প্যাকেট ভুয়া ওষুধ দিতো। এভাবে দেশজুড়ে একটা চেইন গড়ে তুলেছিল তারা।

গ্রেপ্তার ১৭ জন হলেন, কথিত কোম্পানির অন্যতম পরিচালক কাজী আলামিন, মো. সালাউদ্দিন, শেখ মো. আব্দুল্লাহ, মনিরা ইয়াসমিন, জাহিদ হাসান, স্বপন মিয়া, মো. শাহজাহান, মিজানুর রহমান, মো. বাদশা ওরফে সুলাইমান, ইমাম হোসাইন, আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আনারুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, ফারুক উদ্দিন, আঞ্জমানআরা বেগম, শেখ রবিন, মো. ইমাম হোসেন এবং আছমা বেগম।

র‌্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, এই চক্রটি নামি-দামি রেস্টেুরেন্টে সভা, সেমিনার, মোটিভেশনাল ওয়ার্কশপ, আকর্ষণীয় লাঞ্চ ও বুফে ডিনার পার্টির আয়োজন করে সদস্যদের আস্থায় নিতো। এ ধরনের ঝাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে প্রলুব্ধ হয়ে খুব সহজেই তাদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিত। এভাবে চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, কথিত ওষুধ বিক্রির দায়িত্ব ছাড়াও এই চক্র সুইসড্রাম অ্যাপসে অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিতো। তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও নগদ এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব-৪ এর অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, কথিত কোম্পানির পরিচালক কাজী আলামিন দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি থেকে সদস্যদের সামনে নামতেন। তিনি নিজেকে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, কখনও প্রবাসী বলে পরিচয় দিতেন। এদের কথিত এস-ফ্যাক্টর ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের বিএসটিআই বা ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন নেই। কোম্পানির বৈধ কাগজপত্রও নেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে