ভারতের সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারী ছাত্রী চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার

0
206
স্বামী চিন্ময়ানন্দ

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা উত্তর প্রদেশের আইন বিভাগের এক ছাত্রীকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার–পূর্ববর্তী জামিন আবেদনের শুনানির এক দিন আগে আজ বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো।

মেয়েটির পরিবার অভিযোগ করেছে, পুলিশ আজ সকালে মেয়েটিকে প্রায় জোর করে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। জুতা পরার সময়টুকুও তাঁকে দেওয়া হয়নি।

স্বামী চিন্ময়ানন্দ প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি কয়েকটি আশ্রম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। গত মাসের শেষ দিকে তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছিলেন ২৩ বছরের ওই আইনপড়ুয়া শিক্ষার্থী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণ করতে চায়নি।’

ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত স্বামী চিন্ময়ানন্দ বর্তমানে জেলে নেই। দুই দিন জেল খেটেই অসুস্থতার নাম করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার আদালত ওই শিক্ষার্থীর গ্রেপ্তার আবেদনের বিষয়ে শুনানি করতে সম্মতি জানান। আদালতের এ খবর পেয়েই পুলিশ মেয়েটিকে গ্রেপ্তারের জন্য বেরিয়ে আসে বলে জানায় এনডিটিভি অনলাইন।

গ্রেপ্তার–পূর্ববর্তী জামিন আবেদনের শুনানির জন্য উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুরের আদালতে যাচ্ছিলেন মেয়েটি। এ সময় উত্তর প্রদেশের পুলিশের একটি বিশাল দল তাঁকে নাটকীয়ভাবে গাড়ি থামিয়ে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে জোর করে তাদের গাড়িতে বসতে বাধ্য করে। আদালতে শুনানি রয়েছে বলে তিনি পুলিশের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানান। মেয়েটির বাবা জানান, তাঁকে পুলিশের প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নথি হিসেবে গ্রেপ্তারের স্মারকলিপিতে সই করতে বাধ্য করা হয়।

বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়া চলে এলে পুলিশ শেষ পর্যন্ত মেয়েটিকে আদালতে যাওয়ার অনুমতি দেয়। মেয়েটিকে এখন সাধারণ জামিনের আবেদন করতে হবে।

গত সপ্তাহে ৫০ জন পুলিশের পাহারায় আদালতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন ওই শিক্ষার্থী। কলেজে ভর্তিতে সহযোগিতার দোহাই দিয়ে এক বছর ধরে তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর গোসলের ভিডিও ধারণ করে তা নিয়ে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগও তুলেছেন। এ ছাড়া বন্দুকের ভয় দেখিয়ে চিন্ময়ানন্দকে জোর করে ম্যাসেজ করানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। পরে তিনি চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে চশমায় ক্যামেরা লাগিয়ে রাখেন। ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে চিন্ময়ানন্দের পক্ষ থেকে মেয়েটির নামে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় আজ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো।

তবে এই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করা হয়নি। বরং ‘যৌনমিলনের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার’ করার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি নমনীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ অভিযোগে চিন্ময়ানন্দের ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। আর ধর্ষণের অভিযোগ আনলে ন্যূনতম সাত বছরের জেল থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারত।

চিন্ময়ানন্দের আইনজীবী ওম সিং গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি প্রথম দিন থেকে বলে আসছি, ফেসবুকে ওই নারীর আপলোড করা ভিডিওটির সঙ্গে চিন্ময়ানন্দের কাছ থেকে চাঁদাবাজির যোগসূত্র রয়েছে। কেন তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি, তা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। তিনি কারাগারে যাবেন, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।’ এক দিনের মাথাতেই ওম সিংয়ের কথা সত্যি হলো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে