ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, শিশুসহ শিকার আরও পাঁচ

0
220
ধর্ষণ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়বাড়িয়ায় কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া জেলার সদর উপজেলায় ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে আশুগঞ্জে ব্যাগ তৈরি কারখানার এক কিশোরী শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। দিনাজপুরের বিরলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে আট বছরের শিশু। নেত্রকোনার আটপাড়ায় মাতৃহীন আট বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়বাড়িয়ায় প্রেমিকের সঙ্গে ঘোরাফেরা করার সময় কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। গত ২০ আগস্ট বিকেলে ওই ছাত্রী তার প্রেমিকের সঙ্গে গোকর্ণঘাট গ্রামে ঘোরাফেরা করে একা বাড়ি ফিরছিল। পথে পৈরতলা এলাকার মোখলেছ মিয়া নামে এক যুবক তার সহযোগীদের নিয়ে ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পরদিন ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। শুক্রবার রাতে মোখলেছকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে সদর উপজেলায় বৃহস্পতিবার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের ঠিকাদার কাজী পাভেলের বাড়িতে দুধ দিতে গেলে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পাভেলের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ গত শুক্রবার রাতে ধর্ষক পাভেলকে গ্রেফতার করে শনিবার আদালতে পাঠিয়েছে।

এদিকে, আশুগঞ্জে ব্যাগ তৈরি কারখানার এক কিশোরী শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত মো. ইমনকে গ্রেফতার করেছে। কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত কিশোর ইমন মৈশাইর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ইমনের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বুধবার সন্ধ্যায় কিশোরী ফ্যাক্টরির কাজ শেষে রিকশায় ফেরার পথে ইমন তাকে জোর করে বইগর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে দুই বন্ধুর সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করে।

আশুগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ময়নাল হোসেন বলেন, মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।

দিনাজপুর বিরলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার পর ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিচারের নামে ধর্ষিতাকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মাতবরদের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে ওই গৃহবধূ মামলা করেন।

জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ওই গৃহবধূ নিজ ঘরে একা ছিলেন। এ সময় দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার মাঝাডাঙ্গা গ্রামের মনতাজ আলীর ছেলে সুমন ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। তখন গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সুমনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ঘটনার পরই ঘটনাস্থলে যান রাজারামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল চন্দ্র রায়, ইউপি সদস্য বিজয় চন্দ্র রায়। এ সময় সুমনের পক্ষের লোকজন কৌশলে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

বিরল থানার ওসি এটিএম গোলাম রসুল জানান, মামলার পর ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মুক্তাগাছায় আট বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, শিশুটির মা স্বামী পরিত্যক্ত। তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। গত শুক্রবার শিশুটি বাড়িতে একা ছিল। এ সুযোগে শিশুটিকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে একই এলাকার বখাটে যুবক আবদুর রহিম ওরফে চাকি।

মুক্তাগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত তারা কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তার পরও অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চলছে।

নেত্রকোনা: জেলার আটপাড়ায় মাতৃহীন আট বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

শিশুটির পরিবার জানায়, শুনই ইউনিয়নের ইছাইল গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সাদ্দাম হোসেন শিশুটিকে মুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভনে শনিবার দুপুরে ধর্ষণ করে।

আটপাড়া থানার এসআই আবদুল কাদের জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষককে আটকের চেষ্টা চলছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.