ব্যবসায়ীকে সাড়ে তিন ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ কাদের মির্জার বিরুদ্ধে

0
70
বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, ছবি: সংগৃহীত

নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ীর নাম আবদুল ওহাব (৫৪)। তিনি বসুরহাট তরকারি বাজারের মেসার্স ছাত্তার বেকারির মালিক। আবদুল ওহাব মুঠোফোনে বলেন, আজ সকাল ১০টার দিকে তিনি দোকানে (বেকারি) বসে ছিলেন। এ সময় বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা তাঁর দোকানে আসেন। এসেই তিনি তাঁকে একটি ঘুষি দেন। এরপর তাঁর সঙ্গের লোকজনকে দিয়ে তাঁকে তুলে পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে যান। আবদুল ওহাব জানান, পৌরসভা কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় তাঁকে আটকে রাখেন। জুমার নামাজ শুরুর আগমুহূর্তে তাঁর কাছ থেকে একটি সাদা স্ট্যাম্পে তিনটি সই নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেন।

আজ সকাল ১০টার দিকে বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা আমার দোকানে আসেন। এসেই তিনি আমাকে একটি ঘুষি দেন। এরপর তাঁর সঙ্গের লোকজনকে দিয়ে আমাকে তুলে পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে যান।

আবদুল ওহাব, নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ী

ব্যবসায়ী আবদুল ওহাব বলেন, তিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কাদের মির্জার সঙ্গেই দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতি করছেন। কখনো তাঁর সঙ্গে কোনো বিষয়ে দুকথা হয়নি। ব্যবসা নিয়েও কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। কেন কী কারণে কাদের মির্জা তাঁকে দোকান থেকে তুলে নিয়েছেন, তা তিনি বুঝতেও পারছেন না বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে তাঁর মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ঘটনার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কাদের মির্জার ফোন থেকে পরপর দুটি খুদে বার্তা আসে প্রতিবেদকের মুঠোফোনে। প্রথমটিতে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চাওয়া হয়। নম্বর পাঠানোর আগেই হোয়াটসঅ্যাপে ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ পাঠানো হয়, যাতে ছাত্তার বেকারির মালিক বলেন, ‘মেয়র সাহেব আমার কাছে কোনো চাঁদা দাবি করেনি এবং আমাকে মারধরও করে নাই। একটি মহল বিভ্রান্তি করতেছে, এটার থেকে আপনার দূরে থাকুন।’ ভিডিওটি বেকারির ভেতরে সন্ধ্যায় ধারণ করা বলে মনে হয়েছে।

পরে ভিডিও ক্লিপে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী আবদুল ওহাব বলেন, ‘কাদের মির্জার লোকজন আমাকে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রেখেছেন। তাঁর লোকেরা আমার দোকানে এসে চাপ প্রয়োগ করে চাঁদা দাবি না করার বিষয়ে বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছেন এবং ভিডিওটি ধারণ করেছেন।’

খুদে বার্তা ও ভিডিও ক্লিপ পাঠানোর পর কাদের মির্জার মুঠোফোন থেকে এই প্রতিবেদকের মুঠোফোনে একটি কল আসে। অপর প্রান্তে অপরিচিত এক ব্যক্তি প্রতিবেদকের উদ্দেশে বলেন, ‘ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট করবেন।’

কাদের মির্জার ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনিও ঘটনাটি শুনেছেন। তবে যে ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে, ওই ব্যবসায়ী কিংবা তাঁর পক্ষে কেউ থানায় এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এর আগেও কাদের মির্জার বিরুদ্ধে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে পৌরসভা কার্যালয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবদুল কাদের মির্জা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণাকালে জাতীয় নির্বাচন, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ ও বৃহত্তর নোয়াখালীর দুই সাংসদের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর কাদের মির্জা তাঁর ভাবি ইশরাতুন্নেসা কাদেরের বিরুদ্ধে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগসহ বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধেও নানা অপমানজনক কথা বলেন ও বিষোদ্‌গার করেন। এতে দলের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়, যা পরবর্তী সময়ে সংঘাতে রূপ নেয়। ধারাবাহিকভাবে চলে আসা ওই সংঘাতে স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ দুজন নিহত এবং আহত হয়েছেন অনেক নেতা-কর্মী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে