বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে দ.এশিয়ায় বাংলাদেশের অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি

0
151
সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের (আইইপি) বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৯ সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়।

বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে আগের বছরে চেয়ে এবার ছয় ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। তার আগের বছর অগ্রগতি ছিল চার ধাপ। অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদ দমনে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে দেশ। সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এবার বাংলাদেশের অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি।

সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের (আইইপি) বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৯-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আইইপি মানুষের ভালো থাকা ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও অর্জনযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করে।

আইইপি এবার ২৩টি গুণগত ও পরিমাণগত নির্দেশকের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৬৩টি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি করেছে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৯। এসব দেশের জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে দেশগুলোকে শূন্য থেকে ১০ স্কোরের মধ্যে তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে। ৮-এর বেশি থেকে ১০ স্কোর পর্যন্ত পাওয়া দেশগুলোয় সন্ত্রাসবাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্কোর ৬-এর বেশি থেকে ৮-এর মধ্যে থাকা দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের উচ্চ হুমকিতে রয়েছে। ৪-এর বেশি থেকে ৬-এর মধ্যে স্কোর রয়েছে যেসব দেশের, সেগুলোয় মাঝারি মাত্রার সন্ত্রাসবাদ রয়েছে। ২-এর বেশি থেকে ৪ পর্যন্ত স্কোর পাওয়া দেশগুলোয় সন্ত্রাসবাদের উপস্থিতি কম। শূন্য-এর বেশি থেকে ২ পর্যন্ত স্কোর পাওয়া দেশগুলোয় সন্ত্রাসবাদ খুবই কম পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ওই ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৩১তম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের স্কোর ৫ দশমিক ২০৮। অর্থাৎ এ দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব মাঝারি মাত্রার। ২০১৮ সালে সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৫তম। এর আগের বছর বাংলাদেশ ছিল ২১তম।

১৬৩টি দেশের তালিকায় আগের বছরের তুলনায় ছয় ধাপ এগিয়ে ৩১তম বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৪ সালের চেয়ে বেশি ছিল, ৩৩ হাজার ৫৫৫ জন। এরপর থেকে চার বছর ধরে তা ধারাবাহিকভাবে কমছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৫২ জনে। ২০১৪ সালের তুলনায় এটা ৫২ শতাংশ কম।

বিশ্বজুড়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে ৯৮টি দেশ উন্নতি করেছে। তবে এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে ৪০টি দেশে। প্রতিবেদনে তালেবানকে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ২০১৩ সালের পর এবারই প্রথম আইএস জঙ্গি সংগঠনগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান হারিয়েছে। আইএসের খোরাসান শাখা ও বোকো হারাম রয়েছে শীর্ষ চার প্রাণঘাতী জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে।

দক্ষিণ এশিয়ার সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলের মালদ্বীপ বাদে বাকি সাত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেপাল (বৈশ্বিক তালিকায় ৩৪তম), শ্রীলঙ্কা (৫৫তম) ও ভুটান (১৩৭তম)। এই অঞ্চলে আফগানিস্তান বাদে বাকি ছয় দেশ গত বছর সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতিতে উন্নতি করেছে। এই ছয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশে। ২০১৮ সালে এ দেশে ৩১টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারায় সাতজন, যা আগের বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশ কম। ২০১৭ সালে আইএসসহ যে আটটি সংগঠন সক্রিয় ছিল, সেগুলোর মধ্যে পাঁচটিই ২০১৮ সালে এসে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৯-এ আরও জানানো হয়, ইউরোপ মহাদেশে জঙ্গি হামলায় প্রাণহানি গত বছর ৭০ শতাংশ কমেছে। তবে এই মহাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে, উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়ায় কট্টর ডানপন্থী সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের কারণে ২০১৮ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার বা ২ লাখ ৮০ হাজার ১৬৮ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার টাকার (৮৪ দশমিক ৯০ টাকায় ১ ডলার ধরে) সমপরিমাণ।

সূচকে সন্ত্রাসবাদকবলিত শীর্ষ দেশ যথাক্রমে আফগানিস্তান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, পাকিস্তান, সোমালিয়া, ভারত, ইয়েমেন, ফিলিপাইন ও গণতন্ত্রী কঙ্গো। প্রথম চার দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। বাকি ছয় দেশ সন্ত্রাসবাদের উচ্চ হুমকিতে রয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানে (বৈশ্বিক তালিকায় পঞ্চম) গত বছর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে ৩৬৬টি। এসব হামলায় প্রাণ গেছে ৫৩৭ জনের। আর ভারতে (বৈশ্বিক তালিকায় সপ্তম) ৭৪৮টি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছে ৩৫০ জন। তালিকায় সন্ত্রাসবাদের প্রভাব নেই—এমন ১০ দেশ হলো যথাক্রমে বেলারুশ, গিনি-বিসাউ, ওমান, গাম্বিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া, সিঙ্গাপুর, পূর্ব তিমুর, মরিশাস ও তুর্কমেনিস্তান। এসব দেশের প্রতিটিরই স্কোর শূন্য।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে