বেসরকারি স্কুলের সাড়ে ২২ হাজার শিক্ষক বিপাকে

0
264
সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে শিবু মার্কেট এলাকার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে স্ত্রীসহ থাকেন শিক্ষক মহিদুল ইসলাম। বাসা থেকে অল্পদূরে কে এ একাডেমি নামের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়িয়ে ও টিউশনি করে চলে তাদের সংসার।

করোনার কারণে স্কুল বন্ধ। মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন পাননি এই শিক্ষক। চলতি মাসেও স্কুল খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তরুণ এই শিক্ষক বলেন, দুই মাসের বাড়ি ভাড়া জমে গেছে। বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। কিন্তু গত ১৬ মার্চ থেকে স্কুল বন্ধ। স্কুলের মালিক ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন আদায়ের আগেই করোনার কারণে সরকার স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে। তাই ফান্ডে টাকা না থাকায় আমরাও বেতন পাইনি। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

বাড়িওয়ালা মোক্তার হোসেন বলেন, বাড়ি ভাড়ার জন্য চাপ না দিয়েও আমার উপায় নেই। কারণ, আমিও চলি বাড়ি ভাড়ার টাকা দিয়ে। নগরের বেসরকারি প্রতিটি স্টু্কলের একই অবস্থা। নগরের চর সৈয়দপুর এলাকার সি কে সি মডার্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, গত ১৬ মার্চ সরকার স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে মার্চের বেতন, পরীক্ষার ফি ওঠেনি। তাই আমরা শিক্ষকদের বেতন দিতে পারিনি।

শুধু নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলারই সাড়ে পাঁচশ’ কিন্ডারগার্টেন স্কুলে রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক। সবারই একই রকম অবস্থা বলে জানালেন শিক্ষক নেতারা। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, জেলাব্যাপী আনুমানিক দেড় হাজার বেসরকারি স্কুলে সাড়ে ২২ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। এসব স্কুলের বেশিরভাগ ভাড়া বাড়িতে চলে। স্কুলের মালিকরা বাড়ি ভাড়া দিতে না পারায় অনেক স্কুলই বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সংগঠনের সহসভাপতি (মিডিয়া) নাজমুল হাসান রুমি বলেন, দেশে ৬৫ হাজার বেসরকারি স্কুলে ১০ লাখ শিক্ষক কাজ করছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এসব স্কুলের শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সমস্যা সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কওমি মাদ্রাসাগুলোকে প্রণোদনা দিয়েছে। ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদেরও প্রণোদনা পাওনা।

সংগঠনের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ জুয়েল বলেন, কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি স্কুলগুলোকে সরকার সহায়তা করলে স্কুলগুলো বেঁচে যাবে। বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জন্য কিছু করতে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন শিক্ষকরা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, যেহেতু তারা সরকারি নন, সেহেতু এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।

জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, এসব স্কুল শিক্ষকের জন্য সরকারি কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে নেই। আমি বিষয়টি সংশ্নিষ্ট দপ্তরে জানাব।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে