বেইজিং কখনোই স্নায়ুযুদ্ধ চাইবে না: জিনপিং

0
39
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: এনডিটিভি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বেইজিং কখনোই স্নায়ুযুদ্ধ বা কর্তৃত্ব চাইবে না। কোনো দেশের মধ্যে বিরোধ হলে তা আলোচনা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নিরসন করতে হবে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে রাখা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শি জিনপিং বলেন, বিশ্বের উচিত শান্তি, উন্নয়ন, সমতা, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার পক্ষে থাকা। এগুলোই মানবতার সাধারণ মূলবোধ। এ মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে ছোট ছোট জোট বা ব্লক গড়ার চর্চা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দেশগুলোর মধ্যে ভিন্নতা ও সমস্যা এড়ানো কঠিন হলে তা সমতা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনা এবং সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নিরসনের প্রয়োজন। এক দেশের সফলতার অর্থ অন্য দেশের ব্যর্থতা নয়।’

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে সম্প্রতি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এরপর মঙ্গলবার জাতিসংঘের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, চীনের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ নয়, বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, দেশ দুটির মধ্যে বিশ্বে নেতৃত্ব, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, দক্ষিণ চীন সাগর ও মানবাধিকারের মতো বেশকিছু ইস্যুতে মতবিরোধ চলছে।

এমন প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, সংঘাত ও বর্জনের বদলে আমাদের আলোচনা এবং অংশগ্রহণ অনুসন্ধানের প্রয়োজন। আমাদের নতুন ধরনের এক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরি করা দরকার, যার ভিত্তি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা, ন্যায়বিচার এবং সবার জন্য লাভজনক সহযোগিতা।

এ ভাষণে জলবায়ু সংকট নিয়ে শি জিনপিং বলেন, ‘অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে যেন গ্রিন এনার্জি ও কম কার্বন নিঃসরণ হয় এমন জ্বালানি ব্যবহার হয়, সেজন্য সহায়তা দেওয়া বাড়াবে চীন এবং আমরা আর অন্য দেশে নতুন কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করব না।’ তার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহৎ নির্মাণ প্রকল্প বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় চীন ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে বহু কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চেষ্টা করে যাওয়া বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো চীনকে এ অর্থায়ন বন্ধে চাপও দিয়ে আসছিল।

বিআরআইর অধীনে চীন বহু দেশের রেল, সড়ক, বন্দর ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে বিনিয়োগ করেছে। তবে গত কয়েক বছরের মধ্যে চলতি বছরের প্রথমার্ধেই তারা নতুন কোনো কয়লা প্রকল্পে অর্থায়ন করেনি। তবে জিনপিংয়ের সর্বশেষ প্রতিশ্রুতির কারণে দেশের বাইরে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সম্প্রসারণ সীমিত হয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিকে, মঙ্গলবার জাতিসংঘে ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তার দেশের দেওয়া সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০২৪ সাল নাগাদ প্রতি বছর এক হাজার ১৪০ কোটি ডলার সহায়তা দিতে কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করবেন তিনি।

বাইডেন বলেন, সবচেয়ে ভালো অংশটি হলো এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী বিনিয়োগ কেবল জলবায়ুর নীতির জন্যই ভালো নয়, এটা আমাদের প্রত্যেক দেশের নিজের জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যতের জন্য একটা সুযোগ।
বাইডেনের এ প্রতিশ্রুতিকে অনেকেই স্বাগত জানাচ্ছেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই প্রতিশ্রুতি এখনও যথেষ্ট নয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে