বৃষ্টি থামলে রাজকোটে ব্যাট-বলের ঝড়

0
307
বুধবার রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করে বাংলাদেশ দল

রাজকোটের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘মহা’র প্রভাবের বুধবার সন্ধ্যায় বৃষ্টি হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের বার্তা অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গুজরাটের এই ছোট্ট শহরের আকাশ থাকবে মেঘে ঢাকা। নির্ধারিত সময়ে খেলা হওয়ার ব্যাপারে তাই আশাবাদী ম্যাচের আয়োজকরা। প্রাকৃতিক ঝড় হয়তো থেমে গেছে বা যাবে; কিন্তু ক্রিকেটের ঝড় উঠবে সন্ধ্যায়।

ব্যাকফুটে থাকা স্বাগতিক ক্রিকেটাররা আজ ব্যাটে-বলের ঝড় তুলে জিততে চায় আজ। আর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা শপথ নিয়ে ফেলেছেন মাঠে ঝড় তুলে সিরিজ জিতবেন তারা। সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেটের এই মহাঝড় দেখার অপেক্ষায় দুই দেশের সমর্থকরাই। এই ম্যাচে হিমালয় চূড়াসম উচ্চতার আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। নাঈম শেখের মতো তরুণ ব্যাটসম্যানও বিশ্বাস করেন, এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতবেন তারা। এই আত্মবিশ্বাসের জোরে ভারতের মাটিতে আজ টি২০ সিরিজ জয়ের ইতিহাস লিখে ফেলতেও পারে টাইগার বাহিনী।

এই প্রথম টি২০ ক্রিকেটের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ-ভারত, যে মিশনে ১-০-তে এগিয়ে বাংলাদেশ। দল হিসেবে এর চেয়ে ভালো শুরু হতে পারে না, যাকে বলে স্বপ্নের মতো শুরু। আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে নেমে ফেভারিটদের হারিয়ে দেওয়া বিশাল প্রাপ্তিযোগ। আজ এ প্রাপ্তির মুকুটে সংযোজন হতে পারে আরও একটি মুক্তা। দেশের ক্রিকেটের ইতিহাস সমৃদ্ধ হতে পারে ভারতের মাটিতে টি২০ সিরিজ জয়ে। সেটা করতে পারলে দল হিসেবে মর্যাদা বাড়বে বাংলাদেশের। এর ইতিবাচক একটা প্রভাব পড়বে টেস্ট সিরিজে। কে না জানে, ছন্দে থাকা বাংলাদেশ দল সব সময়ই ভয়ংকর। সবচেয়ে বড় কথা, ভারতের সঙ্গে যে মনস্তাত্ত্বিক বাধা ছিল, দিল্লির জয়ে তা কেটে গেছে বলে জানান মাহমুদুল্লাহ, যিনি একাধারে টি২০-র পারফরমার ও দুর্দান্ত একজন অধিনায়ক। তিনিই তো দেখাচ্ছেন জয়ের স্বপ্ন, ‘অবশ্যই এটা দুর্দান্ত সুযোগ। প্রথম ম্যাচে জিতে এগিয়ে থাকলে সবসময়ই ভালো লাগে। ছেলেরা উদগ্রীব হয়ে আছে ভালো কিছু করতে। আশা করি কাল (আজ) ভালো কিছু করে দেখাতে পারব।’

ভারতের কাছে টানা আটটি টি২০ হারের পর নবম ম্যাচে নেমে জয়ের স্বাদ নিয়েছে বাংলাদেশ। সব সংস্করণ মিলে এই দলের বিপক্ষে চার বছর পর জিতেছে। আরেকটি জয়ের জন্য এত অপেক্ষা করতে চায় না বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ যেমন বলছেন, ‘শুরুতে আমাদের ওপর কোনো চাপ ছিল না। এখানে আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। পাওয়ার ছিল অনেক। কালও (আজ) তেমন পাওয়ার থাকবে অনেক। তাই আমরা আগ্রাসী ও ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব।’

বাংলাদেশ অধিনায়ক জানান, সিরিজ জিততে পারলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবেন। দ্বিতীয় ম্যাচে তাই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। এ ম্যাচেও ভারতকে ফেভারিটের তকমা দিয়ে লড়াইয়ে মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকতে চান খেলোয়াড়রা। মাহমুদুল্লাহ জানান, সাকিব-তামিমের অনুপস্থিতিতে একাদশে সুযোগ পাওয়া তরুণ ক্রিকেটাররা ভালো করেছে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স চান তাদের কাছ থেকে। নাঈম শেখের আন্তর্জাতিক অভিষেক জয় দিয়ে হওয়ায় স্বপ্নের মতো কাটছে তার সময়।

মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলে প্রথম খেলার সময় যেমন লেগেছে, এখন ঠিক তেমনি লাগছে। বিশ্বাস হচ্ছে না, সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে আমরা। আজ জিতলেই তো টি২০ সিরিজের ট্রফিটা আমাদের হবে।’

কাছাকাছি অনুভূতি লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবেরও, ‘আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। ধারাবাহিকতা দেখাতে পারলে এ মাঠেও ভালো কিছু হবে। আর ব্যক্তিগতভাবে বোলিং করতে চাই আমি।’

সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভালো কিছু করতে টানা দু’দিন কঠোর অনুশীলন করেছেন খেলোয়াড়রা। সেন্টার উইকেটের পাশের পিচে বুধবার পেস বোলারদের স্পট বোলিং করান চার্লস ল্যাঙ্গেভেল্ট, যেখানে ভেরিয়েশনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। ফিল্ডিং প্র্যাকটিস ছিল চোখে পড়ার মতো। এই বিভাগের কোচ রায়ান কুক বলেন, ‘গত ম্যাচে ফিল্ডিং মোটামুটি ভালো হয়েছে। এ ম্যাচে আরও ভালো করতে হবে। কারণ এ মাঠটা বড়। শটস খেলতে গেলে ক্যাচ উঠবে। ছেলেরা যদি হাফচান্সগুলো গ্রিপ করতে পারে, তাহলে ১০ থেকে ১৫ রান কম হবে। সে ক্ষেত্রে টার্গেটও ছোট হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে