বিলের পানিতে বাতিল নোটের টুকরা: পৌরসভার ৩ কর্মকর্তাকে শো’কজ

0
172
ফেলে দেওয়া টাকার বস্তাগুলো পানি থেকে তুলছে স্থানীয়রা

বগুড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বাতিল নোটের টুকরা পৌরসভার নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনের পরিবর্তে অন্যত্র ফেলায় সেখানকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তিন কর্মকর্তাকে শো’কজ করা হয়েছে।

বুধবার সকালে বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান এ সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

শো’কজ করা কর্মকর্তারা হলেন-বগুড়া পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ, একই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা রাখিউল আবেদীন।

বগুড়া পৌরসভার সচিব রেজাউল করিম জানান, ওই তিন কর্মকর্তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শো’কজের জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর পাশাশাপাশি যে ট্রাকে বাতিল নোটের ওই টুকরাগুলো বহন করা হয়েছিল সেটির ভাড়ার চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার বাতিল করা বিপুল পরিমাণ টাকার নোটের টুকরা গত রোববার জেলার শাজাহানপুর উপজেলার খাড়ুয়া বিলে ফেলা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় লোকজনের চোখে পড়ার পর তা নিয়ে রীতিমত হুলস্থূল কাণ্ড ঘটে যায়।

স্থানীয় জনগণের সন্দেহ, এক বা একাধিক ব্যক্তি অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল পরিমাণ টাকা মেশিনে কেটে পানিতে ফেলে গেছে।

সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ক্যাসিনো ও জুয়ার আস্তানাগুলোতে অভিযান শুরু করার পর তাদের ওই সন্দেহ আরও বদ্ধমূল হয়। যে কারণে মঙ্গলবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকায় শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

পরে পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, টুকরা করা ওই টাকার নোটগুলো বাতিল ও অপ্রচলনযোগ্য। বর্জ্য হিসেবে সেগুলো নির্ধারিত স্থানে ফেলার জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে বগুড়া পৌরসভাকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা রোববার সেগুলো সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে না ফেলে ওই বিলের ধারে ফেলে যায়।

মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর জনমনে বিপুল পরিমাণ টাকার টুকরা নিয়ে সৃষ্ট সন্দেহও দূর হয়।

বগুড়া পৌরসভার সচিব রেজাউল করিম জানান, বগুড়া পৌরসভা এলাকার বর্জ্য ফেলার জন্য সদর উপজেলার বাঘোপাড়া এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে ভাড়া করা ১২টি ট্রাকে প্রতিদিন বর্জ্যগুলো নিয়ে সেখানে ফেলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্জ্যগুলোও সেখানে ফেলার কথা ছিল। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীদের গাফিলতির কারণে ভাড়ায় নিয়োজিত ট্রাকের চালক সেগুলো শাজাহানপুরের  বিলে ফেলে আসে।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার রাতেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ওই তিন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে শো’কজের কথা জানানো হয়। আর আজ (বুধবার) তাদের সেটি লিখিতভাবে দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাতিল নোটের টুকরা অপসারণের কাজটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। এক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। তাই তাদের শো’কজ করা হয়েছে। যুক্তিসঙ্গত জবাব দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে