বিদেশে থাকলে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যেতাম: ড. জাফর ইকবাল

0
257
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার সহধর্মিণী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক

মহাকালের কাছে ২৫ বছর কিছু নয়। কিন্তু একজন মানুষের জীবনে ২৫ বছর এক দীর্ঘ সময়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষকতায় কাটানো জীবনের এই দীর্ঘ ২৫ বছরের স্মৃতিচারণ করেছেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার সহধর্মিণী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাস্ট সায়েন্স এরেনা সংগঠন এ স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আসতে থাকেন। অপেক্ষা করতে থাকেন কখন মঞ্চে উঠবেন স্যার ও ম্যাডাম। তাদের শোনাবেন শাবিতে কাটানো দীর্ঘ ২৫ বছরের নানা স্মৃতির কথা।

অবশেষে মঞ্চে আসেন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি মঞ্চে গিয়েই বলেন, ‘ইতিমধ্যে এ রকম একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, আমি চলে যাচ্ছি। বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগ করছে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য। কিন্তু আমি কাউকে কথা দেইনি এবং আমি তোমাদের বলে যাচ্ছি, কোথাও যোগ দিচ্ছি না। কারণ আমি চাই, আমার পরিচয়টা হোক শাবির শিক্ষক হিসেবে, অন্য কোনো খানের নয়। এখানে আমার প্রতিটা মুহূর্ত সুন্দর কেটেছে। অনেক সুন্দর স্মৃতি নিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, যদি বিদেশে থাকতাম, তবে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মরে যেতাম। কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে দেশে ফিরে আসিনি। এই দেশ অনেক সুন্দর। এখানে সুন্দর বৃষ্টি হয়, এখানে শেয়াল ডাকে, ব্যাঙ ডাকে, যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। আমার জন্য খোদার অশেষ নিয়ামত মনে করি যে, আমি সিলেটে ছিলাম আর সেখানে নিয়মিত বৃষ্টি হয়।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, এখন হয়তো শিবির নেই। কিন্তু তারা একসময় খুবই উৎপাত করেছে। আমার বাসায় বোমা মেরেছে এবং টেলিফোনে বারবার হুমকি দিয়েছে। তখন ছেলেমেয়েদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের ঢাকায় রেখেছি।

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্মৃতিচারণ করার আগে স্মৃতিচারণ করেন অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক। তিনি সাস্টের ২২ বছর বইটার কথা বলেন। এ ছাড়া জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি তার শিক্ষকতার জীবনে সেরা উপাচার্য প্রসঙ্গে বলেন, অনেক ভিসিই তো দেখলাম, কিন্তু হাবিবুর রহমানের মতো কাউকে দেখলাম না।

অনুষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ফৌজিয়া বিনতে ফারুক, মীম, মিতু নাহার এবং ত্রিদীপ সেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে