বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা, আহত অন্তত ৫০

0
51
ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা–কর্মীরা রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ বিএনপির। আজ শুক্রবার সকালে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে, ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আজ শুক্রবার সকাল থেকে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা শ্রীনগর-দোহার বাইপাস এলাকায় জড়ো হন। সকাল ১০টার দিকে তাঁরা মিছিল বের করেন। এ সময় ছাত্রলীগও একটি মিছিল নিয়ে ওই এলাকায় আসে।

বিএনপির নেতা–কর্মীরা বলছেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ বিনা উসকানিতে পুলিশের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ হামলায় উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম খান, মহিলা দলের নেতা সেলিনা রিনা, উপজেলা যুবদলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, যুবদল নেতা মাসুদ রানা, বিএনপি নেতা মামুন, আবুল মৃধা, মো. রণি, আজিম, বাবুল ব্যাপারী, কাউসার হোসেন, আবুল কালাম, তানভীর হাসান, রোকেয়া বেগমসহ বেশ কয়েকজনকে বেদম মারধর করা হয়।

পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ এ হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি

পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ এ হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবেই বাইপাস সড়কে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা–কর্মীরা রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড নিয়ে হামলা চালান। পুলিশ উপস্থিত থেকে পেটানোর নির্দেশ দেয়। হামলায় ৫০ নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। অনেকে ঢাকায় চলে গেছেন। পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের এমন হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

জানতে চাইলে শ্রীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম ইসলাম বলেন, শোকের মাস উপলক্ষে তাঁরা শ্রীনগর বাইপাস সড়কে শোকমিছিল করছিলেন। তখন বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা ছাত্রলীগের মিছিলে অতর্কিত হামলা করেন। এতে ছাত্রলীগের ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার খবরটি যখন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাঁদের আরও নেতা–কর্মী আসেন। পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। ছাত্রলীগ কোনো হামলা করেনি।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিএনপির মিছিল থেকে ছাত্রলীগের উদ্দেশে দু-তিনটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। তখন পুলিশ মাঝখানে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এমনকি দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে দেয়।

পুলিশের বিরুদ্ধে আনা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিএনপি নেতা–কর্মীদের নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গজারিয়া উপজেলা বিএনপি। গতকাল সকাল ১০টার দিকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গজারিয়া ইউনিয়নের সোনালী মার্কেট এলাকায় জড়ো হন বিএনপি নেতা–কর্মীরা। তবে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের অবস্থান ছিল। ফলে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল না করতে পেরে রসুলপুর ফেরিঘাট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করে বিএনপি। মিছিলটি গজারিয়া উপজেলার প্রধান সড়ক ধরে গজারিয়া সরকারি কলেজ হয়ে পুনরায় রসুলপুর খেয়াঘাট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশও হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সিদ্দিক উল্লাহ ফরিদ, সদস্যসচিব আবদুর রহমান, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি মজিবুর রহমান প্রমুখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.