বাবা-মায়ের লাশের পাশেই ঘুমিয়ে ছিল শিশুটি

0
159
শিশু সাফওয়ান

খাটের ওপর পড়ে আছে আবুল কালামের রক্তাক্ত নিথর দেহ। পাশেই উবু হয়ে পড়ে থাকা স্ত্রী পুতুলের প্রাণহীন শরীর। তাকে জড়িয়ে আছেন কালাম। স্বামী-স্ত্রীর রক্ত জমাট বেঁধে আছে পরনের জামা-কাপড় ও বিছানায়। ঘরজুড়ে ছড়ানো শুকনো মরিচের গুঁড়া। বাবা-মায়ের লাশের পাশেই বেঘোর ঘুমে দুই বছরের শিশুপুত্র সাফওয়ান। রাতের কোনো সময় দুর্বৃত্তরা স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর পালিয়ে গেছে, তা কেউ জানে না। বুধবার গভীর রাতে গাজীপুর মহানগরের পুবাইল বসুগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বাবা-মায়ের লাশের পাশে ঘুমিয়ে থাকা শিশুপুত্র সাফওয়ান সকালে ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি শুরু করলে স্বজনরা ঘরের ভেতরে গিয়ে কালাম ও তার স্ত্রী পুতুলের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। কিন্তু কী কারণে এ দম্পতিকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।

জানা যায়, গাজীপুর মহানগরের ৪১নং ওয়ার্ডের বসুগাঁও এলাকার তারা মিয়ার ছেলে আবুল কালামের তৃতীয় স্ত্রী পুতুল। তাদের দুই বছরের ছেলে সাফওয়ান। রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন কালাম। এরপর রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাদের বসতঘরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে।

পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেনি। ভেতর থেকে দরজা খুলে দেওয়ার পর তারা ঘরে ঢুকেছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকারীরা নিহতদের পরিচিত। রাতে তাদের ডেকে তুলে ঘরে ঢোকে।

পুবাইল থানার ওসি নাজমুল হক ভুঁইয়া বলেন, আলামত দেখে মনে হয়, বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা কালামকে ডেকে তোলে। এরপর ঘরে ঢুকে প্রথমেই স্বামী-স্ত্রীর চোখে-মুখে শুকনো মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। পরে তাদের কুপিয়ে হত্যার পর খাটের ওপর ফেলে রেখে যায়। তাদের শরীরে অসংখ্য কোপের চিহ্ন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কালাম বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। কিছুদিন আগে জমি বিক্রি করে বায়না বাবদ তিন লাখ টাকা পেয়েছিলেন। আগে আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন কালাম। সংসার টেকেনি। পরে ওই এলাকায় পুতুলকে বিয়ে করে সংসার গড়েন তিনি।

ওসি নাজমুল হক ভুঁইয়া বলেন, বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে