বাইডেন-পুতিন আলোচনায় অগ্রগতি সামান্য

0
42
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স

দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা চলে। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই তাঁদের আলোচনা শেষ হয়ে যায়। বাইডেন বলেন, তাঁদের আলোচনার জন্য আর সময়ের প্রয়োজন হয়নি। তিনি জানান, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আশা রয়েছে। পুতিনের জন্য বাইডেন সানগ্লাস ও ক্রিস্টালের তৈরি বাইসনের শিল্পকর্ম উপহার হিসেবে নিয়ে আসেন। তবে পুতিন বাইডেনকে কোনো উপহার দিয়েছেন কি না, তা জানা যায়নি।

২০১৮ সালে ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন পুতিন।

বাইডেন ও পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন। তাঁরা দুই দেশের রাজধানীতে রাষ্ট্রদূতদের ফিরিয়ে আনবেন বলেও জানিয়েছেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া মধ্যস্থতা করেছিল বলে অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর গত মার্চ মাসে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করা হয়।

সাইবার নিরাপত্তা, ইউক্রেন, রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির ভাগ্য প্রভৃতি ইস্যু নিয়ে আলোচনায় সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। বাইডেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কারাগারে নাভালনির মৃত্যু হলে রাশিয়ার পরিণতি ধ্বংসাত্মক হতে পারে।
বৈঠকে পুতিন বন্দী বিনিয়ম নিয়ে সমঝোতা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন। সাইবার হামলা প্রসঙ্গে পুতিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ায় বেশির ভাগ সাইবার হামলা চালিয়েছে।

বাইডেন বলেন, তিনি পুতিনের কাছে জানতে চেয়েছেন, নিজ দেশের তেলের পাইপলাইনে হামলা হলে তাঁর (পুতিনের) কেমন লাগবে। বাইডেন আরও বলেন, রাশিয়া নিয়ম লঙ্ঘন করলে যুক্তরাষ্ট্র জবাব দেবে।

মানবাধিকার ইস্যুতে দুই প্রেসিডেন্ট একমত হতে পারেননি। নাভালনির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নাকচ করে দিয়েছেন পুতিন। নাভালনি ২৪ দিন অনশন করবেন বলে জানিয়েছেন।

পুতিন বলেছেন, রাশিয়া দেশের অভ্যন্তরে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার মুভমেন্টের মতো কোনো গোলযোগ চায় না। বাইডেন ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ইস্যুতে পুতিনের মন্তব্যকে হাস্যকর বলেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার ইস্যু সব সময় আলোচনায় রাখতে হবে।
জেনেভা লেকমুখী দৃষ্টিনন্দন ভিলায় বাইডেন ও পুতিনের মধ্যে বৈঠক হয়। এতে খাবারের কোনো বিরতি ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেন এই প্রথম পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন। তাঁদের এই বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়াসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জোর আলোচনা চলে। বিষয়টি স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার আরেক সম্মেলনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৮৫ সালে মিখাইল গর্বাচেভ ও রোনাল্ড রিগ্যান জেনেভায় ওই একই ভিলায় বৈঠকে অংশ নেন। তবে এবারের সম্মেলনে ওই সময়ের মতো কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র এবং প্রতিযোগিতামূলক মতাদর্শ নিয়ে উত্তেজনা কম।

গত সোমবার ন্যাটোর বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৈঠক নিয়ে বলেছিলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সীমা নির্ধারণ করে দেবেন তিনি। তিনি ওই সময়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তাঁর যোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন। তিনি পুতিনকে ‘কঠোর’ নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন।

পশ্চিমা মিত্রদের দূরত্ব কমানোর বার্তা নিয়ে ইউরোপ সফর করছেন জো বাইডেন। তিনি জি-৭ সম্মেলন ও ন্যাটোর বৈঠকে অংশগ্রহণের পর গত মঙ্গলবার জেনেভায় পৌঁছান তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে