বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ত্রিপুরা ছিল পরম আশ্রয়স্থল: অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

0
210
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা' অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানসহ অন্যান্য অতিথিরা ।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, একাত্তরে বাংলাদেশের শরণার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ত্রিপুরা ছিল একটা পরম আশ্রয়স্থল। সেখানে এক পর্যায়ে ত্রিপুরার জনসংখ্যার সমান হয়ে গিয়েছিল শরণার্থীর সংখ্যা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা’ অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রিপুরার অবদান প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আরও বলেন, আমাদের চোখের সামনে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে লাগল। ভারত সরকার শরণার্থীদের জন্য করারোপ করলেন ভারতের নাগরিকদের ওপর। গভীর রাত পর্যন্ত সরকারি দপ্তর খোলা রাখার ব্যবস্থা করেছিল। ত্রিপুরার নাগরিকদের অনেকেই নিজেদের বাড়ির একটা অংশ ছেড়ে দিয়েছিল শরণার্থীদের থাকার জন্য। এরকমই একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশের বাইরে যে সম্মাননা গ্রন্থ প্রকাশ হতে চলেছে, এটি আগরতলা থেকে হয়েছে। এই বইটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের শতাধিক লেখকের কবিতা ও প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে। স্বাধীনতার এতো বছর পরেও বাংলাদেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা অটুট রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাও তারা ফুটিয়ে তুলেছেন কাজের মধ্য দিয়ে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আগরতলার নাগরিকরা নিজেদের বাড়ি ছেড়ে দিয়েছিল শরণার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের, খাইয়েছিল। তাদের আন্তরিকতার এমন দৃশ্য পৃথিবীর কোথাও দেখিনি। তাই তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, সেদিন ত্রিপুরার মানুষের সহযোগিতা না থাকলেও বাংলাদেশের জন্ম ঠিকই হতো, তবে আরও সময় লাগত। বঙ্গবন্ধুও সেই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে স্বাধীনতার পরেই ত্রিপুরায় যান।

স্মারকগ্রন্থের সম্পাদক ও দ্বিবর্ষব্যাপী বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটি (২০১৯-২০২১) সভাপতি ড. দেবব্রত দেবরায় বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাপী যথাযথ মর্যাদায়। তিনি আজীবন অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে পৃথিবীর বুকে একটি বাংলা ভাষার রাষ্ট্র এবং বাঙালি জাতিরাষ্ট্র স্থাপন করে দিয়ে গেছেন। তার জন্মশতবর্ষ বিশ্বব্যাপী বাঙালিরা উদযাপন করবেন, এটাই তো স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় রাজধানী আগরতলার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জীবন জড়িয়ে পড়েছিল নিবিড়ভাবে। তাই আগরতলা তথা ত্রিপুরাবাসীর চিন্তন, মনন এবং হৃদয়াকাশে বঙ্গবন্ধুর স্থান সুউচ্চে প্রতিষ্ঠিত। তিনি জানান, শুধু ঢাকা বা আগরতলাতেই নয়, আগামী দুই বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দিল্লি, কলকাতা, গৌহাটি, শিলিগুড়ি, ছত্তিশগড়, শিলচর ইত্যাদি স্থানে প্রস্তুতি চলছে।

জন্মশতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, কবি অসীম সাহা, ড. আশীষ কুমার বৈদ্য, নিয়তি রায় বর্মণ প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.