বাংলাদেশে চাকরি হলো না ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অধিনায়কের

0
145
১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জার্সিতে টেরি বুচার। ফাইল ছবি: এএফপি

‘পেশাদার’ ছোট একটা শব্দ। কিন্তু কথাটি যে কত কঠিন, তা এক দশক ধরে দেখে আসছে বাংলাদেশের ফুটবল। খাতা-কলমে পেশাদার যুগে পা রেখে একটার পর একটা মৌসুম পার হয়ে যায়, তবু পেশাদারির গন্ধও দেশের ফুটবলের গায়ে লাগে না। ইচ্ছার অভাবেই যে হয়ে ওঠেনি, তা এখন বোঝা যাচ্ছে স্পষ্ট।

এই অচলায়তনে বদল এনে দিয়েছে করপোরেট দুইটি ক্লাব সাইফ স্পোর্টিং ও বসুন্ধরা কিংস। ঢাকার ফুটবলের তথা কথিত রথী-মহারথী ক্লাবগুলোর চোখে তারা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, পেশাদার শব্দের আসল অর্থটা কী বা সংজ্ঞাটা কেমন হওয়া উচিত। ফুটবল দুনিয়ায় নতুনে নাম লিখিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে প্রিমিয়ারে উত্তীর্ণ হয়ে এমন কিছু ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তারা, যা এত দিন ভাবতেও পারেনি দেশের ফুটবলের অন্য ক্লাবগুলো।

সাইফ তো এবার কোচ নিয়োগে দারুণ এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। আলোচনার সাপেক্ষে তাদের নর্দান আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ জোনাথন ম্যাকিস্ট্রি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে রুয়ান্ডা জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করায় কোচ শূন্য হয়ে পড়ে তারা। তাড়াহুড়ো করে কোচের পেছনে না ছুটে আধুনিক ফুটবল বিশ্বের মতো বিজ্ঞাপন দেয় ক্লাবটি। সেখানে আবেদন করেছিলেন ৫০ জনের ওপরে বিদেশি কোচ।

এর মধ্যে ছিলেন ইংল্যান্ডের জার্সিতে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা টেরি বুচারও। ছিয়াশির সেমিফাইনালে ম্যারাডোনার শতাব্দী সেরা গোল তাঁর সামনেই হয়েছিল। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কত্ব করেছেন শেষ দিকে। এ ছাড়া জাম্বিয়ার সাবেক প্রধান কোচ বেলজিয়ামের সেভেন ভ্যানডেনব্রোক, ইস্ট বেঙ্গলের সাবেক ইংলিশ কোচ ট্রেভর মরগানসহ আরও বেশ কিছু ভারী বৃত্তান্তের কোচ। এদের মধ্যে ঢাকায় এসে সাক্ষাৎকার পর্বও দিয়ে গিয়েছেন মরগান ও ভ্যানড্রেনব্রোক। কিন্তু সবাইকে পেছনে ফেলে সাইফের কোচের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন মালদ্বীপের মোহাম্মাদ নিজাম।

২০১৮ সালে এএফসি কাপের প্লে অফের দুই পর্বের ম্যাচেই হেরেছিল সাইফ। সেবার মালদ্বীপ চ্যাম্পিয়ন টিসি স্পোর্টসের কোচ ছিলেন নিজাম। ঢাকায় ১-০ গোলের পর মালেতে ফিরতি পর্বে নিজামের দল সাইফকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৩-১ গোলে। এ ছাড়া সাক্ষাৎকার পর্বে বাংলাদেশের ফুটবল ও সাইফের ফুটবলারদের নিয়ে দারুণ প্রেজেন্টেশন দিতে পারায় নিজামের হাতে এসেছে সাইফের দায়িত্ব।

মালদ্বীপ কোচের হাতে সাইফের দায়িত্ব তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে ক্লাবটির পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সাইফের কোচ হওয়ার জন্য অনেক হাই প্রোফাইল কোচের আবেদন পেয়েছিলাম। এদের মধ্যে টেরি বুচার সহ অনেক বড় বড় নাম ছিল। ব্যক্তিগতভাবে তাঁরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। অনেককেই সাক্ষাৎকার পর্বের জন্য ডেকেছিলাম। মালদ্বীপের কোচ মোহাম্মাদ নিজামকে সবচেয়ে উপযোগী মনে হয়েছে আমাদের। খেলোয়াড় ও দল সম্পর্কে জানে, এমন কোচকেই নিয়োগ দিয়েছি। আমাদের বিপক্ষে এএফসি কাপে তাঁর দল পরিচালনার অভিজ্ঞতাও তাঁকে এগিয়ে রেখেছিল।’ চার বিদেশির সমন্বয়ে দুর্দান্ত একটি কোচিং স্টাফই হাতে পেতে যাচ্ছেন নিজাম। দলে আরও আছে বিদেশি ফিজিও।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে