‘বাংলাদেশি’ হামজাকে নিয়ে এত সমালোচনা ব্রিটিশ মিডিয়ার

0
399
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজা চৌধুরী। ছবি : এএফপি
কিছুদিন আগে ইংলিশ লিগ কাপের এক ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ম্যাট রিচিকে বাজেভাবে ট্যাকল করেছিলেন লেস্টার সিটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। সে ট্যাকল নিয়ে চাঁছাছোলা ভাষায় সমালোচনা করেছেন নিউক্যাসলের কোচ স্টিভ ব্রুস। ব্রিটিশ মিডিয়াও তাতে সুর দিয়েছে। তবে হামজা নিজে জানিয়েছেন, কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি খেলেন না।

ঘটনাটা বেশ কিছু দিন আগের। ইংলিশ লিগ কাপের (কারাবাও কাপ) এক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল নিউক্যাসল ইউনাইটেড ও লেস্টার সিটি। তাতে নিউ ক্যাসলের স্কটিশ উইঙ্গার ম্যাট রিচিকে কড়া ট্যাকল করেছিলেন লেস্টারের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। সেটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিউক্যাসল কোচ স্টিভ ব্রুস। হামজা নাকি রিচির ক্যারিয়ারই শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। হামজা অবশ্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বলেছেন, ট্যাকল তিনি করতেই পারেন। কিন্তু সে ট্যাকল কাউকে খেলার মাঠে আহত করার উদ্দেশ্যে নয়।
ট্যাকলের শিকার হওয়ার পর রিচি আর খেলতেই পারেননি। স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। জানা গেছে অন্তত দুই মাসের জন্য তিনি আর মাঠে ফিরতে পারছেন না। আঘাতটা পেয়েছেন গোড়ালির লিগামেন্টে, সেলাই লেগেছে তিনটি। তবে হামজা ওই ট্যাকলটি করে কোনো কার্ড দেখেননি। ব্রুস মেনে নিতে পারছেন না ব্যাপারটি।
ব্রুসের মতে, লালকার্ডের অপরাধ করেছিলেন হামজা, ‘রিচির পায়ের অবস্থা অনেক খারাপ। আমি কখনো চাই না কোনো খেলোয়াড় কখনো লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যাক। কিন্তু এ ধরনের ট্যাকলের ক্ষেত্রে হিসাব আলাদা। জঘন্য একটা চ্যালেঞ্জ করেছে হামজা।’
কোন পরিস্থিতিতে ট্যাকলটি করেছিলেন হামজা? স্পষ্ট দেখা গেছে, রিচির আগে হামজাই বলের দখল নিতে পেরেছিলেন। সে ক্ষেত্রে কৌশলগত ভাবে ফাউল হয় না। যদি এমন হতো যে রিচি বলের দখল আগে পেয়েছেন, কিন্তু তার পরেও হামজা তাঁকে বাজে ভাবে আক্রমণ করেছেন, তাও হতো। কিন্তু সে কথা ব্রুস কে বোঝাবে কে? ব্রুস নিজের মতেই অবিচল, ‘না। আমার মনে হয় না সেটা। রিচির কপাল ভালো ও সময় মতো পা সরিয়ে নিয়েছিল, না হলে আরও বাজে চোটে পড়ত সে। হয়তো আট মাস মাঠের বাইরে থাকত, হয়তো আর কখনো মাঠেই নামতে পারত না সে।’

ব্রুসের কথার প্রতিধ্বনি দেখা গেছে ব্রিটিশ মিডিয়াতেও। গত কয়েক দিন ধরে সমানে চলছে হামজার মুণ্ডুপাত। কিন্তু হামজা যে রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার! প্রতিপক্ষের খেলার গতি বিনষ্ট করা, প্রতিপক্ষের পা থেকে যেকোনো মূল্যে বল কেড়ে নেওয়াই তাঁর কাজ! রক্ষণভাগকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া তাঁর দায়িত্বের অংশ। শুধু হামজা নয়, বিশ্বের সকল আদর্শ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাররাই একই কাজ করে থাকেন। রিয়াল মাদ্রিদের কাসেমিরো, কিংবা লিভারপুলের ফাবিনহো, চেলসির এনগোলো কান্তে কিংবা জুভেন্টাসের ব্লেইজ মাতুইদি, সবাই একই কাজ করেন। লেস্টার সিটির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে হামজা যে কতটা কার্যকরী, সেটা বোঝা যাচ্ছে গত দুই মৌসুম ধরেই। লিভারপুল যে গত মৌসুমে মাত্র এক পয়েন্টের জন্য লিগ শিরোপা জিততে পারল না, ভেবে দেখলে তাঁর পেছনে লেস্টার সিটির হামজা চৌধুরীরও কিন্তু ভূমিকা আছে!

কীভাবে? খোলাসা করা যাক। গত ডিসেম্বরে লেস্টারের মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল লেস্টার সিটি ও লিভারপুল। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে গোলমুখে বল নিয়ে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যাওয়া সেনেগালের উইঙ্গার সাদিও মানে কে আটকে দিয়েছিলেন হামজা। তাও আবার প্রায় অর্ধেক মাঠ দৌড়ে মানের মতো দ্রুতগতির উইঙ্গারকে পেছন থেকে নিখুঁত ট্যাকল করে। সেদিন হামজা মানেকে না আটকালে হয়তো গোলই করে দিতেন সেনেগালের তারকা। আর গোলটা হলে ড্র নয়, জিতেই মাঠ ছাড়ত লিভারপুল। প্রয়োজনীয় সেই দুই পয়েন্টই হয়তো যথেষ্ট হতো ২৮ বছরের লিগ-খরা ঘোচানোর জন্য!

রিচির ট্যাকলের ব্যাপারে হামজা আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন, বলেছেন রিচি নয়, কাউকেই আঘাত করার বাসনা নিয়ে তিনি মাঠে নামেন না, ‘কাউকেই আঘাত করা উদ্দেশ্য নয় আমার। স্টিভ ব্রুস এসব বলছেন, কেননা তিনি ম্যাচটা হেরেছেন। তিনি নিজেও যখন ডিফেন্ডার ছিলেন, তখন কেমন কড়া ট্যাকল করতেন, আমরা সেটা জানি।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে