বসার চেয়ার জোটেনি কোচ-অধিনায়কের, সমালোচনার ঝড়

0
82
সংবাদ সম্মেলনে পেছনে দাঁড়িয়ে সাফ জয়ী অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন।

সাফ চ্যাম্পিয়ন নারী ফুটবল দল বাংলাদেশে ফিরেছে গতকাল বুধবার। তাদের প্রত্যাশা মতোই ছাদখোলা বাসে তাদের সংবর্ধনা জানানো হয়। সাবিনা-সানজিদারা দেশের মাটিতে পা রাখার পর থেকেই নানাভাবে পুরো দেশের মানুষ তাদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, অভিনন্দন জানিয়েছেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে কোচ-অধিনায়কের কোনমতে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভাইরাল ছবি-ভিডিওতে দেখা যায়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে পৌঁছার পর সংবাদ সম্মেলনে বসার জন্য কপালে চেয়ার জোটেনি সাফ চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের। দাঁড়িয়ে থেকেই কথা বলতে হয়েছে তাদের। অথচ বাফুফে কর্তারা দখল করে রাখেন সকল চেয়ার। এমন সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নবিদ্ধ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

সমালোচকরা বলছেন, যাদের হাত ধরে ১৯ বছর পর এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এলো বাংলাদেশে সেই নায়কদেরই জায়গা হলো না। এমন ঘটনা কেবল দৃষ্টিকটুই নয়, দুঃখজনকও। যারা দেশকে গর্বিত করেছেন, তারাই কি না অসহায়ের মতো সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে রইলেন পেছনের সাড়িতে।

বুধবার রাতে বাফুফে ভবনে সাফজয়ী দলের যে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল তাতে দেখা যায়, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, যুব ও ক্রীড়া সচিব মেজবাহ উদ্দিন, বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা সামনের চেয়ারে বসেছিলেন। আর চ্যাম্পিয়ন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন এবং অধিনায়ক সাবিনা খাতুন দাঁড়িয়ে ছিলেন তাদের পেছনে। সেখানে কোনোমতে দাঁড়িয়েই তারা গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, বাফুফেতে সংবাদ সম্মেলনের শুরুটা হয়েছিল কোচ-অধিনায়ককে মঞ্চে বসিয়েই। পরে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বেশি চলে এলে কোচ এবং অধিনায়ক উঠে গিয়ে তাদের জায়গা ছেড়ে দেন। সাফ জয়ের নায়করা দাঁড়িয়ে থাকলেও তাদের বসানোর ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আসিফ ইকবাল নামে একজন লিখেছেন, অদ্ভুত দেশে বাস আমাদের! সাফ জিতে গোটা দেশকে আনন্দে ভাসিয়েছেন ছোটন-সাবিনা বাহিনী। হুডখোলা বাসে বিমানবন্দর থেকে রাজসিক সংবর্ধনায় বাফুফে ভবনে পৌঁছান ইতিহাস লেখা ফুটবল কারিগররা। অথচ বাসে স্বপ্নের রাজকন্যাদের সঙ্গী ছিলেন সব হোমরা চোমরা কর্তারা। বাফুফে ভবনে সংবাদ সন্মেলনের মঞ্চ দখল করেছিলেন কর্তা ব্যক্তিরা। বসার জায়গা পাননি সাফ জয়ী অধিনায়ক সাবিনা ও কোচ ছোটন। কী অদ্ভুত এই দেশ! যাদের জন্য এই হাসি, এই উচ্ছ্বাস, এই আনন্দ- তাদের দাঁড় করিয়ে কর্তারা বসে আছেন চেয়ারে! লজ্জায় মাথা কাটা যাওয়ার অবস্থা।

এসএম ফয়েজ নামে একজন লিখেছেন, যাদের অর্জন তাদেরকে পিছনে দাঁড় করিয়ে সংবাদ সম্মেলন, যা জাতির জন্য লজ্জা! সামনের সারিতে বসেছেন মন্ত্রী-আমলা! কোচ পিছন থেকে উঁকি দিচ্ছেন! বসার জায়গা পাননি। অধিনায়কের অবস্থাও একই। এ কেমন সম্মাননা? মলিন মুখগুলোর দিকে তাকানো যাচ্ছে না! এ লজ্জা কার?

সাফ জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছিল বাংলার বাঘিনী মেয়েদের নানা প্রশংসা। সাবিনারা দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবন পর্যন্ত যেভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে তা ছিল অভাবনীয়, অকল্পনীয় এবং অবিস্মরণীয়। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকেই কোচ-অধিনায়কের দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। যেন সমালোচনার তীর ছিল বাফুফের দিকেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.