বন্ধ ঘরে পড়ে ছিল ২ ছেলেসহ মায়ের মরদেহ

0
60
নিহতের বাড়ির সামনে প্রতিবেশীদের ভিড়

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নিজ বাড়ি থেকে দুই ছেলেসহ এক মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন, রওশন আরা বেগম (৩৫), তার ছেলে জেহাদুল ইসলাম (১১) ও মাহিন হোসেন (৩)। পুলিশের ধারণা, আনুমানিক ৫-৬ দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ পিবিআই পুলিশ, সিআইডি এবং বেলকুচি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে বেলকুচি থানার ওসি তাজমিলুর রহমান জানান, ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের তাঁত শ্রমিক সুলতান সেখের সাথে স্ত্রী রওশন আরা বেগমের দাম্পত্য কলহ ছিল। রওশন আরা তার দুই শিশু সন্তান নিয়ে ধুকুরিয়াবেড়ার মৌবুপুর গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। গত ৫-৬ দিন ধরে তাদেরকে বাড়িতে দেখা যাচ্ছিল না। শনিবার সন্ধ্যায় ঘরের মধ্যে তিন জনের লাশ দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশের এসপি রেজাউল করিম জানান, লাশ তিনটি গত ৫-৬ দিনের আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। পচন ধরায় তাদের শরীরের অধিকাংশ অংশ ফুলে ফোসকার মতো হয়ে গেছে। প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

স্থানীয়রা জানান, সুলতানের আরেকজন স্ত্রী আছেন। এ কারণে রওশন আরাদের সঙ্গে থাকতেন না। দ্বিতীয় স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি সম্প্রতি জামিনে বের হন।

তারা আরও জানান, রওশন আরা ৫-৬ দিন কাজে যাননি।  মহাজন রওশন আরার বড় বোন লিলি খাতুনকে ফোন দেন। ফোন পেয়ে বিকেলে মবুপুর নতুন পাড়ায় বোনের বাড়িতে এসে তিনি দেখেন, ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। দরজা খুলেই ঘরে মেঝেতে তিনজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। আশপাশের লোক এসে পুলিশকে খবর দেয়।

দাম্পত্য কলহের কারণে স্বামী ও ছেলেদের বিষ বা অন্য কিছু প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে কিনা, সেটি খুঁজছে পুলিশ। সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, খুনের ঘটনায় বেশ কয়েকটি মোটিভ নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। পচন ও দুর্গন্ধযুক্ত লাশ উদ্ধারের পর বাকি প্রক্রিয়া শুরু হবে। রওশন আরার স্বামীকেও খুঁজছে পুলিশ।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল ঘটনাস্থল থেকে বলেন, রহস্যজনক এই মৃত্যুর কারণ খুঁজতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.