বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রভাত আলো ‘বন্ধু’ প্রোগ্রামের শুভ উদ্বোধন

0
526

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে সামনে রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের স্বপ্নময় ও আলোকিত মানুষ গড়তে প্রভাত আলোর স্বপ্ন যাত্রা শুরু হলো ‘বন্ধু’ প্রোগ্রাম।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাঙ্গামাটিতে রাণী দয়াময়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘বন্ধু’ প্রোগ্রামের শুভ উদ্বোধন করলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ খোরশেদ আলম।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে বন্ধু প্রোগ্রামের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ খোরশেদ আলম।

বছর ব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। মেধা উন্নয়নের জন্য আন্তঃস্কুল, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে শিশুদের উৎসাহ দিতে পুরস্কৃত করা হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, এটি একটি নতুন ধারণা। শিশুদের নিজের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে। এক স্কুলের শিশুর সাথে অন্য স্কুলের শিশুদের প্রতিযোগিতা হবে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের মেধা যাচাই হবে। আমরা চাই শিশুরা নাচ, গান জানে, আবৃত্তি জানে এবং লেখা পড়ায় ভাল। যে শিশু লেখাপড়ায় ভাল আর অন্য সবকিছুতে ভাল অর্থাৎ অলরাউন্ডার হবে। শুধু লেখা পড়ায় ভাল হলে চলবে না।

তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হলো শিশুরা যেন ভাল মানুষ হয়, আলোকিত মানুষ হয়। রেজাল্ট ভাল হওয়ার চেয়ে ভাল মানুষ হওয়াটা জরুরী। আমরা চাই সবাই ভাল মানুষ হোক।

প্রভাত আলো সম্পাদক মহাবীর চাকমা বলেন, এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা শিশুর সকল সমস্যা নিরসন করে থাকি।

এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিশুদের সকল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং সমাধাও দেয়া হবে। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে ‘মনের বাক্স’ থাকবে যেখানে ছাত্র/ছাত্রী বা ছোট বন্ধুরা তাদের সমস্যা গুলো লিখে জমা দিবে। অভিভাবক ও শিক্ষকেরাও শিশুদের বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যাগুলো লিখতে পারবেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে বন্ধু প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক ও ছাত্র/ছাত্রীবৃন্দ।

প্রতি সপ্তাহে একবার এই মনের বাক্স খোলা হবে এবং সমস্যাগুলো তালিকা করে শিশু বন্ধুদের সাথে, অভিভাবকদের সাথে এবং শিক্ষদের সাথে আলোচনা করে শিশু বন্ধুদের সমস্যার সমাধান করা হবে। শিশুদের সাথে মা বাবার বন্ধুত্ব, শিশুদের সাথে শিক্ষকের বন্ধুত্ব, অভিভাবকদের সাথে শিক্ষকের বন্ধুত্ব সর্বশেষ শিশুদের সাথে শিশুদের বন্ধুত্ব গড়তে সেতু বন্ধন হিসেবে এ প্রোগ্রামটি কাজ করবে।

রাণী দয়াময়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভাপতির ভাষণে বলেন, শিশুদের মাঝে অনেকগুলো সুপ্ত প্রতিভা থাকে। সেগুলো বিকাশের দায়িত্ব অভিভাবক ও শিক্ষকদের। আমরা চাইব যে শিশুরা অলরাউন্ডার হতে। সমাজে দেশে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে। বর্তমান যুগটা প্রতিযোগিতার যুগ, সব কিছু প্রতিযোগিতা করে তাদের টিকে থাকতে হবে।

ফুরোমোন জুডো কেরাতে এসোসিয়েশনের পরিচালক যশ্বসী চাকমা বলেন, প্রভাত আলো বন্ধু প্রোগ্রামে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছে আমরা যদি অক্ষরে অক্ষরে পালন করি। আমার বিশ্বাস আপনার শিশু আমার শিশুরা  সোনালী ভবিষ্যত হিসেবে গড়ে উঠবে।

তিনি আরো বলেন, কেরাতে একটি খেলা, শরীর চর্চা ও আত্ম রক্ষামূলক প্রশিক্ষন। এখান থেকে একজন জাতীয় পর্যায়ে সিলভার মেডেলিষ্ট, একজন ৯ টা গোল্ড মেডেল পেয়েছে। নবম সাফ গেমসে ডিপু চাকমা গোল্ড পেয়েছে। তাছাড়া আরো দু’জন মেয়ে গোল্ড পেয়েছে। ছেলে মেয়ে সমান ভাবে এই ইভেন্টে অংশ গ্রহন করতে পারে। কার প্রতিভা কোথায় আছে কেউ জানে না। এমনও হতে পারে আপনিও হতে পারেন একজন গর্বিত অভিভাবক।

জাতীয় পরিচিতি প্রাপ্ত শিশু শিল্পী তিশা দেওয়ানের গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন মুন্নী চাকমা।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জুম কালচারাল সেন্টারের পরিচালক সচিব চাকমা, বিশিষ্ট ফটো সাংবাদিক ও প্রভাত আলো বিশেষ প্রতিনিধি দিশারী চাকমা, জুম জার্নালের প্রতিনিধি হাসু দেওয়ান, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী এলিন চাকমা ও কয়েক শত অভিভাবক, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্খীবৃন্দ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে