ফেসবুকে এডিট অশ্লীল ছবি, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

0
799
তামিমের শাস্তি দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন।

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বখাটের উৎপাতে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘুমসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ একত্রে খেয়ে অসুস্থ হওয়ার পর শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত রুকাইয়া আক্তার রূপা (১৫) স্থানীয় বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ব্যবসায়ী রুহুল আমিন মুন্সীর মেয়ে সে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত তামিম খানকে (১৮) শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গ্রেফতার করেছে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ। তামিম উপজেলা সদরের মঞ্জু খানের ছেলে এবং আমানউল্লা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

নিহত রূপার বাবা রুহুল আমিন মুন্সী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তামিম খান কয়েক মাস ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে রূপাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলো। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় তামিম রূপার একটি ছবি ফটোশপে অশ্লীলভাবে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেয়।

রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার বিকেলে এক সহপাঠির সঙ্গে প্রাইভেট পড়া শেষে রূপা বাসায় ফেরার পথে পথ আটকে তার সঙ্গে প্রেম না করায় অশ্লীল এডিট করা ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে তাকে হুমকি দেয় তামিম। এরপর বাড়িতে ফিরে রূপা বিষয়টি তার মাকে জানায়। তার মা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তার বাবাকে জানালে সবাই বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েন।

নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার রাতে রূপা তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে একত্রে বিভিন্ন ওষুধ খায়। অনেক ডাকাডাকির পরও মেয়ের কোনও সাড়া না পাওয়ায় কক্ষের দরজা ভেঙে ফেলেন তার বাবা। রাতেই পরিবারের স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে মেয়েটিকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, রূপার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত তামিম খান ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘর ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপন করেন। তবে শনিবার বিকেলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তামিম খানকে ভাণ্ডারিয়ার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহত রূপার স্কুলের বিক্ষুব্ধ শিক্ষক ও সহপাঠিরা বখাটে ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল বের করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিদ্যালয়ের সম্মূখ সড়কে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।  প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেয়- নিহত রূপার সহপাঠি শিক্ষার্থী রূপকথা রানী, মেঘা আক্তার, তাহিয়া তাইফুন রিমি, ঐশি আক্তার, আমিনা আফরোজ প্রমুখ।

নিহত রূপার বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জিব কুমার হালাদার বলেন, রূপা স্কুলের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। বখাটের উৎপাতে তার এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছিনা। মেয়েটি স্কুলের কেবিনেট নির্বাচনে প্রথম হয়েছিল। অভিযুক্ত বখাটের কঠোর দৃষ্টান্তমূলক দ্রুত শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি এস.এম মাকসুদুর রহমান বলেন, ওই স্কুলছাত্রীর পরিবার থানায় মৃতদেহ নিয়ে এসে অভিযোগ করলে মৃতদহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে