‘ফিরোজা’য় আরও আটজন করোনায় আক্রান্ত

0
38

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’র আরও আটজন স্টাফ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আজ রোববার বিকেলে খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মো. মামুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা ফাতেমাও রয়েছেন।

মো. মামুন সাংবাদিকদের জানান, ‘পাঁচ-ছয় দিন আগে খালদো জিয়ার একজন স্টাফের জ্বর জ্বর ভাব ছিল। তখন তাঁকে টেস্ট করানো হলে পজিটিভ আসে। এরপর ওই স্টাফ যে রুমে থাকতেন, সেই রুমে অবস্থানকারী বাকিদেরও পরীক্ষা করা হয়। তাঁদেরও পজিটিভ আসে। এরপর ম্যাডামের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা করানো হলে তাঁরও পজিটিভ আসে।’

ফিরোজায় চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে মো. মামুন বলেন, আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাঁরা বেসরকারি একটি হাসপাতালে কেবিন তৈরি করে রেখেছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের বাসভবনে তাঁর বোন সেলিমা ইসলামসহ স্বজনদের অনেকেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা–সাক্ষাৎ করতেন। আক্রান্ত বাকি আটজনের মধ্যে স্বজনদের কেউ আছেন কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘আক্রান্ত বাকি আটজনের সবাই ম্যাডামের স্টাফ। স্বজনদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হননি।’

এর আগে খালেদা জিয়ার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি ছড়ায়। গতকাল শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার করোনায় আক্রান্তর খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে গেলে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, খালেদা জিয়ার নিয়মিত চেকআপ হয়েছে। এর বাইরে কিছুই হয়নি।

এরপর আজ সকাল থেকে আবারও খালেদা জিয়ার করোনায় আক্রান্তের খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনায় এলে তখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি বিএনপি। বেলা একটার দিকে খালেদা জিয়ার করোনায় আক্রান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খালেদা জিয়ার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট দেখেছেন। উনি ব্যক্তিগতভাবে গুলশান কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত তিনি নিশ্চিত নন।

অবশ্য এমন বক্তব্য দেওয়ার চার ঘণ্টার মাথায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে খালেদা জিয়ার করোনায় আক্রান্তের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন মির্জা ফখরুল।

তবে এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান নিশ্চিত করেন, খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়েছে।
খালেদা জিয়ার করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে গোপন রাখার বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক মো. মামুন সাংবাদিকদের বলেছেন, চিকিৎসক হিসেবে রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করা ইমানি দায়িত্ব। তাই তিনি করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে