ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ

0
166

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুর কারণ পাঁচ দিনেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘুরপাক খাচ্ছে সন্দেহের মধ্যেই। রিমান্ডে থাকা তার বন্ধু আব্দুর রহমান সৈকতের কাছ থেকেও মৃত্যু সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা। একই সঙ্গে মৌচাকের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স ভবনের ১১ তলার ছাদে পাওয়া স্যান্ডেলের ছাপের ফরেনসিক রিপোর্টের জন্যও অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

রুম্পার পরিবারের দাবি, আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে নন তিনি। তার মৃত্যু সম্পর্কে সৈকতই সব জানে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদেই সব বেরিয়ে আসবে।

তার বাবা পুলিশ পরিদর্শক রোকন উদ্দিন গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জানান, ঘটনার দিন রুম্পার সঙ্গে সৈকতের দেখা হয়েছিল। ওই দিন রুম্পা মৌচাকের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স ভবনের পাঁচতলায় তার এক বান্ধবীর কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করেছিলেন। সৈকত সম্পর্কে সবকিছু আগে থেকেই জানতেন ওই বান্ধবী। তার সঙ্গে সৈকতেরও কথা হতো। রুম্পার খোঁজ না পাওয়ায় তার খোঁজে ওই বান্ধবী সৈকতকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু সৈকত ফোন রিসিভ করেননি। বৃহস্পতিবারও সৈকতকে ফোন করেন ওই মেয়ে। রিসিভ না করায় বিকেলে শান্তিবাগে রুম্পাদের বাসায় যান তিনি। রুম্পার মায়ের ফোন দিয়ে সৈকতের সঙ্গে কথা বলেন। মেয়েটির পরিচয় পেয়ে বাসায় ঘুমাচ্ছেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন সৈকত। রোকন উদ্দিন বলেন, রুম্পা সম্পর্কে কেন সেদিন সৈকত মেয়েটির সঙ্গে কথা বলতে চায়নি, এটাও রহস্যজনক। রুম্পার মৃত্যু সম্পর্কে সৈকতই সব জানে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে নয়।

গত বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর ভবনের সামনে থেকে পুলিশ রুম্পার লাশ উদ্ধার করে। লাশটি অজ্ঞাত হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়। থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে লাশের পরিচয় পাওয়া যায়। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দক্ষিণ বিভাগ তদন্ত করছে। সন্দেহভাজন হিসেবে শনিবার সৈকতকে আটক করার পর রোববার রুম্পা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিন তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ডিবির মিন্টো রোডের কার্যালয়ে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গতকাল ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন।

মামলার তদারকি কর্মকর্তা ডিবির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শামসুল আরেফিন বলেন, ‘সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র বলছে, ঘটনার দিন রুম্পার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কার কার কথা হয়েছিল, কী কথা হয়েছিল, সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। রোববার তার বাসার আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আগে ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো পর্যালোচনা চলছে। ঘটনার পর মৌচাকের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের ১১ তলা ভবনের ছাদে একজোড়া স্যান্ডেলের ছাপের আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেই ছাপ রুম্পার সান্ডেলের কিনা, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফুটপ্রিন্ট মিললে ওই ভবন থেকেই যে পড়ে রুম্পার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, নাকি নিজেই পড়ে আত্মহত্যা করেছে, সেটিও নিশ্চিত নয় এখনও। রুম্পার সঙ্গে সৈকতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার বিকেলে সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় রুম্পার সঙ্গে তার দেখা হয়। সেখানে প্রেম ছিন্ন করার বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে সৈকত দাবি করেছে জিজ্ঞাসাবাদে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে