প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি খুবই পরিচিত সমস্যা। খুব কম মানুষই আছেন, যাঁদের জীবনে কোনো না কোনো সময় এ সমস্যা হয়নি। নারীদের মধ্যে সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার অন্যতম কারণ, প্রস্রাবের ইনফেকশন বা জীবাণুর সংক্রমণ। এ ইনফেকশন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা প্যারাসাইট দিয়ে হতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ার কারণ ইনফেকশন নয়। এর আরও কিছু কারণ আছে।
প্রস্রাবে সংক্রমণের উপসর্গ
- বারবার বা ঘন ঘন প্রস্রাব।
- প্রস্রাব করার সময় মূত্রপথে জ্বালাপোড়ার সঙ্গে প্রস্রাব করার জন্য দ্রুত বাথরুমে ছুটে যাওয়া।
- মূত্রথলির ইনফেকশন বা সিস্টাইটিস হলে তলপেটে ব্যথা হতে পারে এবং প্রস্রাবে মাঝেমধ্যে রক্ত যেতে পারে। আরও ওপরে, মানে কিডনিতে সংক্রমণ বা পায়েলোনেফ্রাইটিস হলে জ্বর এবং ওপরের দিকে পিঠে বা পেছনে ব্যথা থাকতে পারে।
সংক্রমণের চিকিৎসা
- যেখানেই সংক্রমণ হোক, সঠিক অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে সাধারণত কয়েক দিনেই এ ইনফেকশন নিরাময় হয়। মনে রাখবেন, প্রস্রাবের পরীক্ষা আগে করতে দিয়ে পরে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন।
- দোকানদারের কথায় বা নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না। পরীক্ষার ফলাফল পেয়ে চিকিৎসকের কাছে যাবেন, অ্যান্টিবায়োটিক সেনসিটিভিটি অনুযায়ী পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়তে পারে।
- ইনফেকশন পুরোপুরি নিরাময় হলো কি না, দেখার জন্য ওষুধ খাওয়া শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পর আবার প্রস্রাবের কালচার টেস্ট করতে হবে।
সংক্রমণ ছাড়া কী কারণে জ্বালাপোড়া হতে পারে
- ইনফেকশন ছাড়াও প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে। এটির চিকিৎসা ও রোগনির্ণয় বেশ কঠিন।
- গরমে পানি বা তরল কম খেলে প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হতে পারে এবং কোনো অসুখ ছাড়াও প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া হতে পারে। বেশি করে পানি পান করলে এ জ্বালাপোড়া চলে যাবে।
- আরেক ধরনের রোগী আছেন, যাঁরা পর্যাপ্ত পানি পান করেন, তারপরও দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের মাঝেমধ্যেই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয়, অথচ প্রস্রাবের পরীক্ষায় কোনো ইনফেকশন পাওয়া যায় না। তরুণদের ক্ষেত্রে এ শ্রেণির জ্বালাপোড়ার অন্যতম কারণ, ক্রনিক প্রস্টেটাইটিস। বয়স্ক (পঞ্চাশোর্ধ) পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন প্রস্রাবের সমস্যা থাকে।
- মেয়েদের মধ্যে ইনফেকশন ছাড়াও ব্লাডার পেইন সিনড্রোম বা ইন্টারস্টিশিয়াল সিস্টাইটিস–জাতীয় রোগের কারণে দীর্ঘদিন এ–জাতীয় ব্যথা, বারবার প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হতে পারে। আবার অ্যাটিপিক্যাল বা বিরল প্রজাতির জীবাণু দিয়ে সংক্রমণ হলে সাধারণ পরীক্ষায় তা ধরা না–ও পড়তে পারে।
এসব ক্ষেত্রে সঠিক কারণ খুঁজে বের করার জন্য একজন অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
- অধ্যাপক আজফার উদ্দীন শেখ: বিভাগীয় প্রধান, ইউরোলজি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ঢাকা