প্রথম ছবিতে রাজ্জাক ভাই আমার বাবা পরের ছবিতে নায়কঃ ববিতা

0
676
ফরিদা আক্তার ববিতা

কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। প্রয়াণ দিবসে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন বরেণ্য অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা 

নায়করাজ রাজ্জাককে কখন থেকে চিনতেন বা তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল কীভাবে?

তখন আমি গেণ্ডারিয়ার বাসায় থাকি। রাজ্জাক ভাই সুচন্দা আপার সঙ্গে ছবি করতেন। সেই সুবাদে আমাদের বাসায় তার যাতায়াত ছিল। তাকে আমি প্রথম দেখেছি সেই ছোটবেলায়। খুব দুষ্টু ছিলাম। সারাক্ষণ ফ্রিজের র‌্যাকগুলো খুলে বসে থাকতাম। একদিন রাজ্জাক ভাই বাসায় এলে ফ্রিজের দরজা খুলে উঁকি মেরে দেখি তাকে। আমাকে দেখেই উনি হাসি দিয়ে বললেন, তুমি ফ্রিজের মধ্যে লুকিয়ে আছ কেন? এই তার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা, পরিচয়। বলতে পারেন তার চোখের সামনেই বড় হয়েছি। এর পরের গল্প সবারই জানা।

তার সঙ্গে জড়ানো কিছু স্মৃতির গল্প বলুন।

আমি ও রাজ্জাক ভাই ছিলাম সতীর্থ। জহির রায়হানের হাত ধরে দু’জনে চলচ্চিত্রে এসেছি। ওই সময়ে আমি ছিলাম বেণি দোলানো কিশোরী। রাজ্জাক ভাই ছিলেন টগবগে যুবক। তার সঙ্গে আমার প্রথম সিনেমা ছিল ‘সংসার ‘। এতে তিনি ছিলেন আমার বাবা। এর পরই তাকে নিয়ে আমাকে নায়িকা করে ‘শেষ পর্যন্ত’ নামে একটি সিনেমা নির্মাণ করা হয়। ওই সিনেমার বেশ কয়েকটি রোমান্টিক দৃশ্য ছিল। ক’দিন আগে আমি যাকে বাবা বললাম তার [রাজ্জাক] সঙ্গে আবার রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয়! বুকে মুখ রেখে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতে হবে- এটা ভেবে লজ্জায় আমার মুখ থেকে সংলাপ বের হয়নি। জহির ভাই আমাকে খুব বকা দিয়ে বললেন- ‘তুমি কি মনে করেছ, এটা সত্যি নাকি? এটা তো অভিনয়। তার সঙ্গে আমার অভিনয়ের দৃশ্যের ওই স্মৃতি এখনও জ্বলজ্বল করছে। মনে হয়, এই তো সেদিনের কথা। ১৯৬৯ সালে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। এটির সাফল্য ছিল আকাশছোঁয়া।

নায়ক রাজ রাজ্জাক ও ববিতা

 

ব্যক্তিগতভাবে তার সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন? 

নায়করাজের নায়িকা হিসেবেই আমার সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠেছিল, তা কিন্তু নয়। তাকে সবসময় আমার পরিবারের সদস্য মনে করেছি। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সব ছবিতে আমি অভিনয় করেছি। এমনকি তার পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘অনন্ত প্রেম’-এ আমাকে নিয়েছিলেন। তাই খুব কাছ থেকে তাকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। যদি এককথায় বলি, তাহলো বলবো- রাজ্জাক ভাই আমাদের চলচ্চিত্র জগতের একজন প্রতিষ্ঠানতুল্য ব্যক্তি। মানুষ হিসেবেও ছিলেন অমায়িক ও পরোপকারী। নায়করাজের ব্যক্তিত্ব অনুসরণীয়। অভিভাবক হিসেবে সবাইকে তিনি ছায়া দিতেন। ভালো বুদ্ধি-পরামর্শ দিতেন। তার সন্তানদের সুন্দর করে মানুষ করেছেন। একজন আদর্শ পিতা, স্বামী হিসেবে ছিলেন সার্থক। ছিলেন আদর্শ মানুষ। তার মতো মহানায়ক এ দেশে আসেনি। আর আসবে বলে মনেও হয় না।

তার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশেষ কোনো কথা- 

আমরা যেন তাকে ভুলে না যাই। এ প্রজন্মের শিল্পীরা যেন তাকে মনে রাখে শ্রদ্ধা করে। তার রেখে যাওয়া আদর্শ যেন অনুসরণ করে। আমি যখনই সুযোগ পেয়েছি তাকে নিয়ে কথা বলেছি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সামনে রাজ্জাক ভাইকে নিয়ে কথা বলেছি। তার স্মৃতি চিরজাগরূক রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। যে যার জায়গা থেকে এ কাজটি করতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে