প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত সমকাল

0
212
সমকালের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ।

দেশবরেণ্য ব্যক্তিদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে সমকাল। দেশের প্রথম সারির এ দৈনিকের ১৫তম বছরে পদার্পণ উপলক্ষে তেজগাঁওয়ের সমকাল কার্যালয় ভরে উঠেছে ফুলে ফুলে। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর সমকাল কার্যালয়।

‘নতুন দিন, নতুন স্বপ্ন’ শ্লোগানকে সারথি করে সকালে কেক কেটে দিনব্যাপী এ উৎসবের সূচনা করেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইনাম আহমেদ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ক্যাটারটন ডিকসন, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়াসহ আরও অনেকে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও প্রকাশক এ. কে. আজাদ।

কেক কাটার আগে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, আমি সমকাল পড়ি এবং আনন্দ পাই। তাদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ঘটবে, সে প্রত্যাশা করি। নতুন বর্ষপূর্তিতে শুভেচ্ছা।

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীন প্রচারমাধ্যম জরুরি। একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম হিসেবে সমকাল তাদের ভূমিকা আরও জোরদার করবে এই আশা করি।

সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, কৈশোর ছাড়িয়ে আরেকটু সামনে এগিয়েছে সমকাল। দেশের প্রথম সারির এই সংবাদমাধ্যম দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সমকালের আরও সমৃদ্ধি কামনা করি।

কেক কাটার আগে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।

সমকাল পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমি সমকাল পড়ি। এটি আমার প্রিয় পত্রিকা।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশ ও জাতির বিকাশের জন্য গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা জরুরি। সমকাল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে আরও বেশি দায়িত্বশীল হবে- এই প্রত্যাশা করি।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ। সমকাল সে দর্পণ হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার স্থির করেছে, সেক্ষেত্রে অনবদ্য ভূমিকা রাখবে সমকাল। সমকালের ১৫ বছরের আনন্দঘন যাত্রায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে স্মরণ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এমন বাস্তবতায় গণতন্ত্রকে পরিপূর্ণতা দিতে ও জীবন্ত করতে সমকালের মতো পত্রিকা দরকার। তাদের দায়িত্ব পালন করবে এমন প্রত্যাশা করি।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সমকালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দঘন মুহূর্তে প্রয়াত সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে স্মরণ করছি। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত সমকাল গণতন্ত্রের বিকাশে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। সারওয়ার ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় আরও সামনে যাবে সমকাল।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ক্যাটারটন ডিকসন বলেন, যে কোনো দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য বড় ভূমিকা রাখে গণমাধ্যম। বাংলাদেশেও গণমাধ্যম যথাযথ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে নিঃসন্দেহে সমকাল অন্যতম। এর ভূমিকা প্রশংসনীয়। আজকের অনুষ্ঠানে অনেক বিশিষ্টজন এসেছেন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, জাসদ ও ১৪ দলের পক্ষ থেকে সমকালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আশা করি, সংবাদমাধ্যম হিসেবে সমকাল কাঙ্খিত দায়িত্ব পালন করে যাবে।

সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে সমকাল কালের প্রতিনিধিত্ব করবে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য পথ দেখাবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, দেশ একটি ক্রান্তিকালে রয়েছে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণে সমকাল এতদিন ভূমিকা রেখে আসছে। আগামী দিনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সমকাল জনগণের সারথি হবে- এমন প্রত্যাশা রইল।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সমকাল তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, দেশের সুসম্পাদিত পত্রিকার একটি হলো সমকাল। যে ক’টি পত্রিকা পাঠ করি, তার মধ্যে সমকাল প্রথম সারিতে রয়েছে। দেখতে দেখতে ১৫ বছরে পা দিল শীর্ষস্থানীয় এই পত্রিকাটি। ‘নতুন দিনে নতুন স্বপ্ন নিয়ে’ সমকালের যাত্রার ভিত্তি হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করতে তারা আরও বেশি বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী হবে এই প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানে সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, গত ১৫ বছরে সমকাল একই সম্পাদকীয় নীতিতে চলছে। গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা ও উন্নয়নের চেতনাকে ধারণ করে সমকাল এগিয়ে চলছে। প্রয়াত সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আমরা তারই উত্তরাধিকার বহন করছি।

সমকাল প্রকাশক এ. কে. আজাদ বলেন, সমকাল সাফল্যের সঙ্গে ১৪ বছর পেরিয়ে ১৫ বছরে পদার্পণ করেছে। এ আনন্দঘন মুহূর্তে সমকালের সাংবাদিকসহ সব সহকর্মীকে জানাই শুভেচ্ছা। ‘নতুন দিনের নতুন স্বপ্ন নিয়ে’ সমকাল এগিয়ে যাবে- এ আমার প্রত্যাশা।

সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও গণফোরামের নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, ‘অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস’ নিয়ে সমকাল যে যাত্রা শুরু করেছে, সামনের দিনে তা আরও প্রাসঙ্গিক হবে।

অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সমকালের অবদান আরও সমৃদ্ধ হবে- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ।

লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সমকালের প্রথম দিন থেকেই লেখক ও পাঠক হিসেবে আছি। গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম হিসেবে সমকাল ভূমিকা রেখে যাবে।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে সমকালের প্রকাশক এ. কে. আজাদ কাজ করে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রকে আরও এগিয়ে নিতে সমকাল আগামী দিনে গতিশীল ভূমিকা রাখবে।

কথাশিল্পী আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, এই দিনে সারওয়ার ভাইকে স্মরণ করছি। শিগগিরই সমকাল ১৮ বছর পূর্ণ করবে; যৌবনে পা দেবে। সমকালের জন্য শুভেচ্ছা।

সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক অভিনেতা পীযূষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, অসাম্প্রায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রায় সমকাল ছিল, আছে ও থাকবে। সমকাল পরিবারের সবাইকে অভিনন্দন।

জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, সমকাল ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে না। পরিমিতিবোধ নিয়ে বিভিন্ন মতের প্রতিনিধিত্ব করার অব্যাহত ধারা শতবর্ষেও বজায় থাকবে- এমনটাই প্রত্যাশা আমার।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল কাশেস, বিজেএমইএ’র সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে