প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে পশুর চামড়া, গাজীপুরে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে গজারি বন

0
161

ঝিকঝিক শব্দে ছুটে চলছে ট্রেন। হঠাৎ ট্রেনের যাত্রীদের নাকে লাগছে বিষাক্ত ধোঁয়া, পশুর চামড়া পোড়ার গন্ধ। নাকে রুমাল চেপে যাত্রীদের অনেকে পার হচ্ছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের সাটিয়াবাড়ী এলাকা। ওই এলাকায় গজারি বনের ভেতর পোড়ানো হচ্ছে পশুর শত শত টন চামড়া। দুটি চুলা জ্বলছে দিনরাত। বিষাক্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ে মিশছে সবুজ বনের ভেতরে। বন্যপ্রাণীগুলো মরছে কিংবা পালিয়ে যাচ্ছে লোকালয়ে। আশপাশে গ্রামের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগে।

সাটিয়াবাড়ী এলাকার ওই বনের ভেতর গ্লোব গ্লাভস লিমিটেড নামে হাতমোজা তৈরির একটি কারখানার পশুর পরিত্যক্ত চামড়া ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রতিদিন এভাবেই নষ্ট করা হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিষাক্ত হয়ে উঠেছে বনের নির্মল বাতাস। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরও জানা নেই প্রকাশ্যে এভাবে পরিবেশ নষ্ট করার খবর।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজেন্দ্রপুর কাপাসিয়া সড়কের পাশে প্রতিষ্ঠিত গ্লোব গ্লাভস কারখানা থেকে হাতমোজা তৈরির বর্জ্য ও বিভিন্ন পশুর চামড়া পিকআপ বোঝাই করে নিয়ে ফেলা হচ্ছে বনের ভেতর। চামড়ার উচ্ছিষ্টগুলো অন্তত ১০ বিঘা জায়গাজুড়ে হাজার হাজার সাদা বস্তা বোঝাই করে ফেলে রাখা হয়েছে। মাঝখানে জ্বলছে দুটি চুলা। তাতে পোড়ানো হচ্ছে চামড়াগুলো। ১০-১২ মধ্যবয়সী নারী পোড়া চামড়া শুকাচ্ছেন। কাঁচা সরু পথের পাশে অনেক স্থানে স্তূপ আকারে পড়ে আছে শত শত বস্তা। এর পাশেই ঢাকা-জামালপুর রেল সড়ক। ট্রেনের যাত্রীদের নাকে রুমাল চেপে এ এলাকা অতিক্রম করতে দেখা গেছে।

গ্লোব গ্লাভস লিমিটেড কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক শাহজাহান সরকার বলেন, চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় কয়েকজন কারখানা থেকে চামড়ার বর্জ্যগুলো সরিয়ে নেয়। এর জন্য তাদের কর্তৃপক্ষ টাকাও দিয়ে থাকে। তবে চামড়াগুলো তারা কোথায় নেয় বা কী করে, সেটা কর্তৃপক্ষের দেখার বিষয় নয়।

জানা গেছে, আলী হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী চুক্তির মাধ্যমে কারখানা থেকে বর্জ্যগুলো এনে সেখানে ফেলছেন। প্রতিটি পিকআপ বর্জ্যের জন্য তাকে ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ এক হাজার করে টাকা দেয়।

রাজেন্দ্রপুর এলাকার বারইপাড়া বিটের অধীন ওই জায়গার বেশিরভাগই বন বিভাগের। তবে আলী হোসেন দাবি করেছেন, এর একটা অংশ ব্যক্তিমালিকানার জমি।

মাসুদ রানা নামের স্থানীয় এক যুবক জানান, চামড়া পোড়ার গন্ধে তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। বন বিভাগের নাকের ডগায় বছরের পর বছর অবৈধভাবে দিব্যি এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

চামড়াগুলো পুড়ে কয়লা হওয়ার পর সেগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু চামড়ার কয়লা দিয়ে কী তৈরি করা হয়- জানতে চাইলে আলী হোসেন বলেন, এটা তার জানা নেই। তবে এই কয়লা উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজল তালুকদার বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে এমনটা হয়ে থাকলে দু-এক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

গাজীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুস সালাম সরকার বলেন, চামড়া পোড়ানোর জন্য কোনো ধরনের লাইসেন্স কাউকে দেওয়া হয়নি। শিগগিরই তারা সেখানে অভিযান পরিচালনা করবেন বলে জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে