পুলিশ উপ-পরিদর্শকের ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরিবার খুঁজে পেল জুথি

0
234
প্রায় চার বছর পর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতায় এবং কুমিল্লার এক এসআইয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসের কল্যাণে জুথি খুঁজে পেয়েছে তার পরিবারকে।

গৃহকর্তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ৪ বছর আগে ট্রেনে চড়ে ঢাকা থেকে অজানার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন শিশু জুথি।

নামেন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে। অপরিচিত জায়গা দেখে স্টেশনে বসেই কান্না শুরু করেন। কাঁদতে দেখে এক ব্যক্তি তাকে নগরীর শাহমখদুম থানায় হস্তান্তর করেন। তার পরিবারকে না পেয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠায় পুলিশ। সেখানেই দিন কাটতে থাকে জুথির। প্রায় চার বছর পর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতায় এবং কুমিল্লার এক এসআইয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসের কল্যাণে জুথি খুঁজে পেয়েছে তার পরিবারকে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা য়ায়, ২০১৫ সালের ২ জানুয়ারি রাজশাহী রেল স্টেশনে তাকে কাঁদতে দেখেন ফেরদৌস হোসেন (৩২) নামের এক ব্যক্তি। শিশু জুথিকে তিনি উদ্ধার করে নগরীর শাহমখদুম থানায় হস্তান্তর করেন। জুথির বাড়ি কুমিল্লার লাঙ্গকোট থানায়। তার বাবার নাম সত্তর আলী। তিনি বাহরাইন প্রবাসী। তার পরিবারের খোঁজ না পাওয়ায় তিনি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে বড় হতে থাকেন। তিনি একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মারধরের কারণে ট্রেনে করে পালিয়ে রাজশাহী যান শিশু জুথি।

পুলিশ আরও জানায়,  সম্প্রতি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পুলিশ পরিদর্শক পলি দাস জুথির পরিবারকে খুঁজে বের করার লক্ষ্যে লাঙ্গলকোট থানার ওসির সঙ্গে ফের যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে ওসির নির্দেশে দিবাকর রায় নামের এক এসআই তার ফেসবুক টাইমলাইনে জুথিকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি জুথির চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী শারমিনের নজরে আসে। এরপর জুথির পরিবার থানায় যোগাযোগ করে বুধবার আরএমপি’র ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে আসেন। এসআইয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে পরিবারকে খুঁজে পেল জুথি। বুধবার তাকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরর নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সুজায়েত ইসলামের তত্বাবধানে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সদস্যরা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, চার বছরের বেশি সময় শিশুটি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে বড় হয়েছেন। পুলিশের অনুসন্ধানে তার পরিবারকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে