নৌ ধর্মঘটে চার দিনে ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা

পণ্যের জট খুলতে লাগবে ১৫ দিন

0
212
চট্টগ্রাম বন্দর

নৌ সেক্টরে টানা চার দিনের ধর্মঘটে আমদানিকারকদের ক্ষতি হয়েছে ৫০ কোটি টাকারও বেশি। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অলস বসে থাকা ৪৩ জাহাজের প্রতিটিকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার আসা আরও ১১টি জাহাজও ধর্মঘটের কবলে পড়েছে। এতে বহির্নোঙরে এখন অলস বসে থাকা জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪টিতে।

আজ শুক্রবার থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হলেও এসব জাহাজের জট খুলতে ব্যবসায়ীদের অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ১৫ দিন। কারণ ধর্মঘটে আটকা পড়ে দেশের ৩৮টি ঘাটে চার দিন ধরে ভাসছে ৮৭৪ জাহাজ। এসব জাহাজে চাল, ডাল, গমসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১২ লাখ টন পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পরই বন্দরের বহির্নোঙর থেকে নতুন করে পণ্য নিতে পারবে এসব লাইটার জাহাজ। আটকে থাকা পণ্য খালাস ও আসা-যাওয়ার এই সময়টাতে নৌ সেক্টরে নতুন করে যোগ হবে আরও কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি।

জানতে চাইলে চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হলে সেটির খেসারত গুনতে হয় ভোক্তাদেরই। এটির প্রভাব হয় সুদূরপ্রসারী। বন্দরের বহির্নোঙরে যে অর্ধশত জাহাজ প্রতিদিন ১৫ লাখ টাকা করে লোকসান গুনছে তা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই আদায় করবে তারা। আর ব্যবসায়ীরা তা আদায় করবে ভোক্তাদের কাছ থেকে। বিভিন্ন ঘাটে আটকা পড়া সহস্রাধিক জাহাজের ক্ষতিও গুনতে হবে আমাদের। সব মিলিয়ে এই ক্ষতি অর্ধশত কোটি টাকার বেশি হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ (মাদার ভেসেল) থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য ওঠানামার দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন। এই সংগঠনের চেয়ারম্যান একেএম শামসুজ্জামান রাসেল বলেন, আজ শুক্রবার থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হলেও ৫৪টি জাহাজের জট খুলতে ব্যবসায়ীদের অন্তত ১৫ দিন বাড়তি সময় লাগবে। এরই মধ্যে নতুন করে যোগ হবে পাইপলাইনে থাকা জাহাজও। তারা ২৪ ঘণ্টা খালাস কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কিন্তু চাইলেই সব সমস্যা সমাধান তারা করতে পারেন না।

লাইটার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ জানান, কর্মবিরতির কারণে দেশের ৩৮টি ঘাটে ৮৭৪ জাহাজে ১২ লাখ টন পণ্যের জট লেগেছে। বন্দরের বহির্নোঙরে ৫৪টি বড় জাহাজে আছে আরও ১৬ লাখ টন পণ্য। সব মিলিয়ে এখন জট লেগেছে প্রায় ২৮ লাখ টন পণ্যের। এতে তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রতিদিন অন্তত আট কোটি টাকা। চার দিনে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২ কোটি টাকা।

একইভাবে বিভিন্ন ঘাটে ১২ লাখ টন পণ্যবাহী জাহাজ চার দিন ধরে খালাস করতে না পারায় তাদেরও ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এই ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন এই খাতের সংশ্নিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) বন্দরের বহির্নোঙরে থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর করে। ভোগ্যপণ্য ছাড়াও নদীপথে পরিবাহিত সিমেন্ট ও ইস্পাতের কাঁচামাল পরিবহন করা হয়। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সরঞ্জামও নৌপথে পরিবহন করা হয় সারাদেশে। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে চার দিন ধরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে পুরো নৌ সেক্টরে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজে শস্যদানা, গম, চিনি, ডাল জাতীয় খাদ্যপণ্য ছাড়াও সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিঙ্কার, চুনাপাথর, জিপসাম, পাথরসহ পণ্য রয়েছে।

আবার দেশের ৩৮টি ঘাটে এসব জাহাজে ডাল, গম, চিনির কাঁচামাল, ভুট্টা, সার, সিমেন্ট ক্লিঙ্কার, পাথর, লাইমস্টোন, ড্যাপসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে প্রায় ১২ লাখ টন। পণ্য নেওয়ার অপেক্ষায় সিরিয়ালে আছে ৩৭৬টি জাহাজ। এ হিসাবে অলস বসে থাকা জাহাজের সংখ্যা মোট এক হাজার ২৫০টি।

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে