নেপালের মঞ্চে এবার ছেলেরা

0
75
নেপালে ছেলেরা

এক সপ্তাহে আগে কাঠমান্ডুর যে মাঠে পা পড়েছিল বাংলাদেশের মেয়েদের। যেখানে রচিত হয়েছে ফুটবলের নতুন গল্প। সেখানেই নামছে আজ জাতীয় দল। বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল যেন ফিরে গেলেন কয়েক দিন আগের সুখকর সেই মুহূর্তে, ‘এই মাঠে খেলতে নামব বলে স্পেশাল অনুভূতি কাজ করছে আমাদের মধ্যে। কারণ এখানে ইতিহাস গড়েছে মেয়েরা। আমাদের মাথায় আছে যে মাঠে মেয়েরা জিতেছে, সেই মাঠে আমাদেরও জিততে হবে।’ কৃষ্ণা রানী-সানজিদা আক্তারদের ঐতিহাসিক সেই ভেন্যুতে নামার আগেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বাংলাদেশ অধিনায়ক। মেয়েদের দেখানো সাফল্যকে প্রেরণা হিসেবে নেওয়া হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার দল যে হিমালয়ের দশরথে ওড়াতে চায় বিজয়ের কেতন। স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আগে ঘুরেফিরে আলোচনায় মেয়েদের ট্রফি জয়ের গল্পটি। ফুটবলে শুরুর গল্পের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর আনিসুর রহমান জিকো-মোহাম্মদ ইব্রাহিমরা। বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচে স্বাগতিক নেপালের মুখোমুখি হবেন জামালরা।

প্রতিপক্ষ, ভেন্যু একই। পার্থক্য প্রতিযোগিতার। নেপালের বিপক্ষে কাঠমান্ডুতে সাবিনারা খেলেছিলেন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। আর মঙ্গলবার একই ভেন্যুতে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জামালদের ম্যাচটি সৌহার্দ্যের। আদতে প্রীতি ম্যাচ হলেও লড়াইয়ের উত্তাপ টের পাওয়া গেছে সোমবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। মেয়েদের কান্না ভোলাতে মরিয়া নেপালের কিরন কুমার লিম্বুরা। আর ক্যাবরেরা ও জামালের কণ্ঠে পুনরাবৃত্তির প্রতিশ্রুতি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ছেলেদের ফুটবলে নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যর্থতার গল্পটাই বেশি। গত বছরের ১৩ অক্টোবর মালেতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শেষ মুহূর্তের গোলে তাদের সঙ্গে ড্রয়ে বাংলাদেশ ছিটকে যায় টুর্নামেন্ট থেকে। একই বছরের ২৯ মার্চ কাঠমান্ডুতে ত্রিদেশীয় কাপের ফাইনালে নেপালের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়ে শুধু শিরোপাই ফসকে যায়নি, ব্যর্থতার দায়ে কোচের চাকরি হারাতে হয় জেমি ডে কে। এক বছর আগের সেই বাংলাদেশ এখন নেই। হিমালয় জয় করতে যাওয়া লাল-সবুজের জার্সিধারীরা কম্বোডিয়াকে তাদের মাঠে হারিয়েছে। এই দলটির সবার মধ্যে আছে আত্মবিশ্বাস ও ভালো করার তাড়না। ফুটবলে যে সুবাতাস বইছে, তার রেশটা যেন এখন পুরো দলের মধ্যে। র‌্যাঙ্কিংয়ে নেপালের (১৭৬) চেয়ে ১৬ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ (১৯২)। কিন্তু র‍্যাংকিং জামালের কাছে স্রেফ একটা সংখ্যা। মাঠে একতাবদ্ধ হয়ে নেমে নেপালকে হারানোর প্রত্যয় এ মিডফিল্ডারের, ‘এটা ঠিক নেপালকে হারালে র‍্যাংকিংয়ে আমাদের উন্নতি হবে। তবে আমার ফোকাস র‌্যাঙ্কিংয়ে নয়, খেলায়। যদি আমরা জিততে পারি আলহামদুলিল্লাহ। র‍্যাংকিংয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। আমার চিন্তা শুধু জিততে হবে।’

হিমালয়ের দেশটির বিপক্ষে সেই জয় যে এসেছে প্রায় দুই বছর আগে ঢাকায়। ২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর প্রীতি ম্যাচে জিতেছিল ২-০ গোলে। কোচ ক্যাবরেরার গুডবুকে নেই বলে সেই ম্যাচে গোল করা নাবীব নেওয়াজ জীবন এবার দর্শক। তবে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা রাকিব হোসেনের কাঁধেই আক্রমণভাগের দায়িত্ব। সেটা ঠিকমতো পালন করতে পারলে নেপাল থেকে আবারও উঠবে ফুটবলের জয়ধ্বনি। হিমালয় দেশটির বিপক্ষে জয়ের সংখ্যাটাও বেড়ে যাবে। এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত দুই দলের ২৭ বারের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ১৩ বার জিতেছে, নেপাল আটবার জিতেছে, বাকি ছয় ম্যাচ অমীমাংসিত ছিল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.