নুসরাত হত্যার রায়ে সরকার সন্তুষ্ট: সেতুমন্ত্রী

0
152
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ে সরকার সন্তোষ প্রকাশ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, অবিশ্বাস্য দ্রুততার সঙ্গে এই মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সরকার স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করছে।

রায় ঘোষণা হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামির এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শুনে তাদের কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নুসরাতের বাবা এ কে এম মুসা বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। তাহলে নুসরাতের আত্মা শান্তি পাবে। একই সঙ্গে তার পরিবারের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী জানান, সবাইকে তল্লাশি করে আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না আদালত এলাকায়।

সকাল থেকে আদালত চত্বরে ভিড় করে আছেন বিপুল সংখ্যক সংবাদকর্মী। এসেছেন নুসরাতের সহপাঠী, বন্ধু, স্বজনরাও।

গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে শ্লীলতাহানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ। ওই দিন মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার হন তিনি। ২৮ মার্চ সিরাজকে কারাগারে পাঠানো হয়। আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও কাউন্সিলর মাকসুদের তত্ত্বাবধানে অধ্যক্ষের পক্ষে মানববন্ধন হয়। একই দিন কাউন্সিলর মামুনের নেতৃত্বে অধ্যক্ষের বিপক্ষেও মানববন্ধন হয়। পরদিন ফেনীর জেলখানায় গিয়ে সিরাজের সঙ্গে দেখা করেন এ মামলার আসামি নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুল কাদের, জাবেদ, রানা, অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ সাতজন।

গত ১ এপ্রিল জেলখানায় অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে শামীম, নূর উদ্দিনসহ পাঁচজন। ওই দিন ডিসি ও এসপির কাছে অধ্যক্ষের পক্ষে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ৩ এপ্রিল আবার ফেনীর জেলখানায় প্রিন্সিপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১৫ জন। ৪ এপ্রিল বিকেলে মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশের টিনশেড ভবনের পাশে অধ্যক্ষের পক্ষে প্রথম বৈঠক হয়। সেখানে নূর উদ্দিন, জোবায়েরহ ছয়জন উপস্থিত ছিল। দ্বিতীয় বৈঠক হয় সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। ওই বৈঠকে ২০ সদস্যের মুক্তি পরিষদ গঠন হয়। দ্বিতীয় দফার বৈঠকে উপস্থিত ছিল ১৬ জন।

৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের তৃতীয় তলার ছাত্র হোস্টেলে তৃতীয় দফায় বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিল নূর উদ্দিন, শামীম, জোবায়ের, কাদেরসহ ১০ জন। হত্যায় ব্যবহূত সরঞ্জাম কেনায় অর্থ দেয় কাউন্সিলর মাকসুদ আলম। কেরোসিন কেনে শামীম, বোরকা ও হাতমোজা কিনেছে কামরুন্নাহার মনি। এর আগে উম্মে সুলতানা পপির মাধ্যমে শামীমের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা পায় মনি। ৬ এপ্রিল বান্ধবী নিশাতকে মারধর করা হচ্ছে বলে ছাদে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন দেওয়া হয়। একটি গ্রুপ এ কাজে নিয়োজিত ছিল। আরেকটি গ্রুপ মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার ও গেট পাহারায় ছিল। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢামেক বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।

গত ২৯ মে ১৬ জনকে আসামি করে নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করে পিবিআই। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। এ মামলায় মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ৮৭ জন। নুসরাত হত্যার পর বেরিয়ে আসে এসপি, এডিএম (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) ও ওসির বিতর্কিত ভূমিকার কথা। নুসরাতের পরিবারও বলে আসছে, প্রশাসনের লোকজন দায়িত্বশীল আচরণ করলে হয়তো নুসরাতকে ওই পরিণতি বহন করতে হতো না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে