নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুলকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চায় পরিবার

0
98
সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল। ছবি ফেসবুক থেকে নেওয়া

নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তার স্ত্রী ও ছেলে এ দাবি জানান। শফিকুল ঢাকা থেকে প্রকাশিত পক্ষকাল ম্যাগাজিনের সম্পাদক।

শফিকুলের স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী বলেন, শফিকুল গত মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে হাতিরপুলে তার পত্রিকার কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে পুরান ঢাকার বকশি বাজারের বাসা থেকে বের হন। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার দুটি মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে এক ব্যক্তি শফিকুলের ফেসবুকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার আসামি হিসেবে শফিকুলসহ কিছু ব্যক্তির তালিকা পাঠান। বিষয়টি জানতে পেরে পরদিন গত বুধবার তিনি এ ঘটনায় চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি বলেন, শফিকুলকে নিয়ে তারা দু:দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে তাকে খুঁজে বের করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোনো বিষয় না। শফিকুলের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না বলে জানান তার স্ত্রী।

শফিকুলের ছেলে মনোরম পলক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তিনি বাবাকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকর কাছে সহযোগিতা কামনা করছেন। একই সঙ্গে বাবার নিখোঁজের বিষয়ে সহকর্মী, সব গণমাধ্যম কর্মী ও তার বন্ধুদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা তাদের জানাতে অনুরোধ করেন। মামলার আসামি হিসেবে তার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হলো কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মনোরম বলেন, থানা, ডিবি ও র‍্যাব কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেনি।

আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু উপস্থিত ছিলেন।
নিখোঁজের বিষয়ে জানতে চাইলে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুদ হাওলাদার আজ সন্ধ্যায় বলেন, শফিকুলকে উদ্ধারে থানা-পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও র‍্যাব কাজ করছে। তবে পুলিশ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কিছু বুঝে উঠতে পারছে না।

যুবলীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া-কাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে গত সোমবার রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শেরেবাংলা থানায় মামলা করেন মাগুরা-১ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ সাইফুজ্জামান শিখর। শফিকুল ইসলাম তার ফেসবুকে প্রকাশিত খবরের শেয়ার করায় তাকেও ওই মামলায় আসামি করা হয়।

এদিকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এক বিবৃতিতে শফিকুল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাকে অবিলম্বে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তড়িৎ পদক্ষেপে গ্রহণের দাবি জানান। শফিকুল মেহেরপুর জাসদের জেলা কমিটিরও সদস্য।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে