নিউইয়র্কে ১৩ জুন পর্যন্ত ঘরে থাকার আদেশ

0
115
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। ছবি: রয়টার্স

নিউইয়র্কে নাগরিকদের ঘরে থাকার আদেশ ১৩ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের কিছু প্রান্তিক এলাকা ১৫ মে থেকে খুলে দেওয়া শুরু হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো এ নিয়ে আরেকটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে নাগরিকদের ঘরে থাকা সম্পর্কিত বিধিনিষেধসহ সব ধরনের নির্দেশনাবলি ১৩ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে বলা হয়। অন্য কোনো নির্বাহী আদেশে পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যের সর্বত্র কড়াকড়ি অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয় এতে।

অঙ্গরাজ্যের প্রান্তিক এলাকার মধ্যে ফিঙ্গার লেক, সাউদার্ন টায়ার, মোহাক ভ্যালি, নর্থ কাউন্টি—এসব এলাকা প্রথম ধাপে ১৫ মে থেকে খুলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর করোনাভাইরাসে আগের ২৪ ঘণ্টায় নিউইয়র্কে ১৫৭ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন।

এদিকে নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো কোভিড-১৯–এর সঙ্গে সম্পৃক্ত অসুস্থতার বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে ১১০ জন অল্প বয়সীর মধ্যে সম্প্রতি একধরনের রহস্যজনক অসুস্থতা দেখা দিয়েছে, যা কোভিড-১৯ রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। এ নিয়ে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। এমন অসুস্থতায় এরই মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিউইয়র্ক নগরীতে পাঁচ বছরের এক শিশু, ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে সাত বছরের এক শিশু ও সাফোক কাউন্টিতে এক কিশোরের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে।

অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বলেছেন, ‘আমাদের চোখ খোলা রাখতে হবে। প্রতিদিন অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে এবং এ ভাইরাস নিয়ে নতুন নতুন বিষয় জানা যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘১১০টি এমন অসুস্থতার খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে আমরা এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। এই নতুন ধরনের অসুস্থতাও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

এই নতুন উপদ্রব সামাল দেওয়ার জন্য পুরো আমেরিকার মধ্যে নিউইয়র্ক এগিয়ে থাকবে বলে আশ্বাস দেন অ্যান্ড্রু কুমো। গভর্নর বলেন, ‘সবার বিষয়টি সম্পর্কে ভালো করে জানা উচিত। এতে শিশুদের অসুস্থ হয়ে পড়া ও তাদের মধ্যে প্রকাশিত লক্ষণের ওপর ভালো করে নজর রাখা সম্ভব হবে।’

নতুন ধরনের এই অসুস্থতার লক্ষণ বা উপসর্গের মধ্যে রয়েছে পাঁচ দিনের বেশি জ্বর থাকা, পেটে মারাত্মক পীড়া, ডায়রিয়া, বমি, রক্ত বর্ণের চোখ, চামড়ায় ফুসকুড়ি ছাড়াও চামড়ার রং বদলে যাওয়া, একদম শিশু বয়সীদের খাওয়ানোর সমস্যা, পানীয় পানে সমস্যা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বুক ওঠানামা দ্রুত করা বা বুকে ব্যথা অনুভূত হওয়া, মেজাজ খিটখিটে বা বিভ্রান্ত বোধ করা। নিউইয়র্কের যে কেউ শিশুদের মধ্যে নিচের যেকোনো উপসর্গ দেখলেই দ্রুত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) স্বাস্থ্যসেবীদের কাছে জরুরি নির্দেশনা পাঠাচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে