নিঃস্বপ্রায় ছবির পরিচালকের পাশে তথ্যমন্ত্রী

0
171
‘গন্তব্য’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়েছেন পরিচালক অরণ্য পলাশ। এই পরিচালকের পাশে দাঁড়িয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। নিজে এক লাখ টাকা দেন এই পরিচালককে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ, ঢাকা, ৬ নভেম্বর। ছবি: তথ্য মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘কোনো পেশাই অসম্মানের নয়, আমি নিজেও বিদেশে রেস্তোরাঁয় ওয়েটারের কাজ করেছি।’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে হোটেল বয়ের কাজ করা চলচ্চিত্র পরিচালক অরণ্য পলাশকে অর্থ সহায়তা প্রদানের সময় এ কথা বলেন তিনি। অরণ্য পলাশকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘টি-বয়ের কাজ করেছি, সুতরাং আপনার মনে কষ্ট পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’

বুধবার সচিবালয়ে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ‘গন্তব্য’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়া অরণ্য পলাশকে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ নিজের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা হস্তান্তর করেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষের ওই অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে যখন বিদেশে পড়াশোনা করতাম, তখন হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাজ করতাম। অর্থাৎ আমি নিজেও টি-বয়ের কাজ করতাম। সেখানে অবশ্য টি-বয় বলে না, ওয়েটার বলে। এটি বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে আমি সেই কাজ করতাম। একদিন দুদিন নয়, আমি বিদেশে অনেক দিন ছিলাম মাস্টার্স ও ডক্টরেট করার জন্য। সেখানে অনেক দিন কাজ করেছি, মাসের পর মাস। কোনো কাজই অসম্মানের নয়।’

‘গন্তব্য’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক অরণ্য পলাশ।

মন্ত্রী বলেন, ‘অরণ্য পলাশের পরিস্থিতি দেখে আমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব—সবার সঙ্গে আলোচনা করেছি তাঁকে আমরা কোনোভাবে সহায়তা করতে পারি কি না। আজকে তাঁকে ডেকেছি ব্যক্তিগতভাবে আমার পক্ষ থেকে সহায়তা করার জন্যে। কারণ, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহায়তা করতে হলে একটা প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়। আপনারা জানেন, সরকার যে অনুদান দেয়, সেটার একটা কমিটি আছে, সেই কমিটির মাধ্যমে অনুদান অনুমোদিত হতে হয়। কমিটির সঙ্গে আমি কথা বলব তাঁর এই চলচ্চিত্র যাতে মুক্তি পায়, সে জন্য আরও কী খরচ দরকার, আর কী সহায়তা দরকার, কমিটির সঙ্গে সেটি আলোচনা করব।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি আবারও বলব, কোনো কাজই কিন্তু অসম্মানের না, সব কাজই সম্মানের এবং সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজকে কোনো পেশাকে অসম্মানিত করে কোনো কিছু বলা কারও উচিত নয়। সব মানুষ সম্মানের, সব কাজ সম্মানের।’

জানা গেছে, তরুণ চলচ্চিত্র পরিচালক অরণ্য পলাশ নির্মাণ করেছিলেন ‘গন্তব্য’ নামের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি। ছবি নির্মাণ এবং সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া হলেও পরিচালক ছবিটি মুক্তি দিতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরণ্য পলাশ বলেন, ‘ছবির প্রযোজক আমি। আমার সর্বস্ব শেষ করে “গন্তব্য” সিনেমাটি নির্মাণ করেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে সুদে ঋণ নিয়ে, জমি বিক্রি, স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে সিনেমার কাজ শেষ করেছি। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর ছবিটি সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন পায়। কিন্তু ছবিটি মুক্তির জন্য আমার কাছে টাকা নেই। এই ছবিটি নির্মাণ করতে গিয়ে আমি আমার সব হারিয়েছি। আমার আত্মীয়স্বজন আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।’

‘গন্তব্য’ ছবির দৃশ্যে ফেরদৌস ও আইরিন। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

অরণ্য পলাশ বলেন, ‘আমি এখন মিরপুরে একটি রেস্তোরাঁতে হোটেল বয়ের কাজ করছি। দেখুন আমার নিজেকে চলতে হবে। আমি অনেক জায়গায় চাকরি খুঁজেছি। সবাই বলেছেন, আগে সিনেমা রিলিজ দাও তারপর। এভাবে তো চলতে পারে না। আমার পেট চালাতে হবে। তাই দৈনিক ২৫০ টাকা হাজিরা ও তিন বেলা খাওয়ার চুক্তিতে রেস্তোঁরায় কাজ করছি।’

ছয় বন্ধু মিলে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সেই চলচ্চিত্রটি সারা দেশে প্রদর্শন করানোর ঘটনা নিয়ে গড়ে উঠেছে সিনেমার কাহিনি। গল্পে আছে দুটি ভাগ, একটি শহরের, অন্যটি গ্রামের।

অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মো. মুরাদ হাসান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও চলচ্চিত্র) মো. মিজান-উল-আলম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান, চলচ্চিত্র পরিচালক অরণ্য পলাশ ও তাঁর নির্মিত ‘গন্তব্য’ চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রযোজক এলিনা শাম্মীসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে