নাসিরনগরে মাজারের দানবাক্স নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৫

0
98
নাসিরনগরে ডেঙ্গু শাহার মাজারের দানবাক্সের চাবি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় সংঘর্ষে বসত বাড়ি ও দোকান ভাংচুরসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ডেঙ্গু শাহার মাজারের দানবাক্সের চাবি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় সংঘর্ষে বসত বাড়ি ও দোকান ভাংচুরসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

মাজারের খাদেম আলী ফকির বলেন, ‘প্রায় চারশ বছরের পুরনো ডেঙ্গু শাহর মাজার। এই মাজারের দায়িত্বে আছে চারটি খাদেম পরিবার। এ চার খাদেম পরিবারের মধ্যে মাজারের দানবক্সের টাকা নিয়ে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ হয় এবং আদালতে মামলাও চলমান আছে। ফলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মাজারের দানবক্সের দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে তুলে দেন হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুকের হাতে। এভাবে তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ফারুক। কিছুদিন পূর্বে মাজারের চারটি খাদেম পরিবার তাদের মধ্যে চলা মতবিরোধ অবসান করে দানবক্সের দায়িত্ব ফিরে পেতে দাবি জানান। তখন ফারুক দানবক্সের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে গালমন্দ করেন।’

খাদেম আলী ফকির বলেন, ‘আমরা দানবক্সে একটি তালা ঝুলিয়ে দেই। তালা দেয়ায় ফারুক ক্ষুদ্ধ হয়ে মঙ্গলবার রাতে মিটিং করে তার দলবল নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। এসময় আমাদের পক্ষের ১২ জন আহত হন। এর মধ্যে ৭ জনকে মাধবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বাকি ৫ জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকজনের বসত বাড়ি ও দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাট-ভাংচুর করা হয়।’

আহতরা হলেন- ফারসু মিয়া, সেতু মিয়া, কামাল মিয়া, ছায়েদুল হক, জিয়াউর রহমান, লুদন মিয়া, বদরুল আলম, জামিল মিয়া, মিয়ান মিয়া, জফরু নেছা, তকদীর হোসেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফারুক বলেন, ‘মাজারের চারটি খাদেম পরিবারের দ্বন্দ্বের কারণে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতে দানবক্সের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়।  কিন্তু তারা  কিছু না জানিয়ে এবং বর্তমান মাজার কমিটির সভাপতিকে অবহিত না করেই দানবক্সে তালা ঝুলিয়ে দেয়। আমার পক্ষের লোকজন বাধা দিলে তারা দান বক্সের টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে চায়। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।’

মাজার কমিটির সভাপতি সামসুল হক ফকির বলেন, মাজারের দানবক্স নিয়ে সংঘর্ষের খবর শুনেছি। এর বেশি আমি কিছু জানি না।

নাসিরনগর থানার ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে