নারায়ণগঞ্জে শিথিল লকডাউনে বাড়ছে সংক্রমণ

0
145
লকডাউন

বাংলাদেশের প্রথম তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্তের মধ্যে দুজনই নারায়ণগঞ্জের। প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার ঠিক এক মাস পরে জেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু শুরু থেকেই লকডাউন সেভাবে কার্যকর হয়নি। এরপরও লকডাউনের মধ্যে করোনা সংক্রমণের মাত্রা কিছুটা কমলেও চলতি সপ্তাহ থেকে আবার বাড়তে শুরু করেছে। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, লকডাউন শিথিল হওয়া ও করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা আইসোলেশনে (বিচ্ছিন্ন) না থেকে মেলামেশা শুরু করায় সংক্রমণ বাড়ছে।

বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা দেওয়া হয় গত ৮ মার্চ। এই তিনজনের মধ্যে দুজনই নারায়ণগঞ্জের। এরপরও জেলাটিতে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ৩০ মার্চ জেলায় করোনায় আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়। জেলায় দ্রুত করোনা ছড়িয়ে পড়ছে, এই শঙ্কায় ৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে লকডাউন অথবা কারফিউ জারি করতে চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরও তিন দিন পরে ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে লকডাউনের ঘোষণা দেয় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। তার আগে ৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জকে সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন জেলার মানুষের বসবাস। নারায়ণগঞ্জ থেকে সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে পুরো জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। লকডাউনের মধ্যেই শত শত মানুষ নারায়ণগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেই বিভিন্ন জেলায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ এপ্রিল আইইডিসিআর নারায়ণগঞ্জকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কেন্দ্র (এপিসেন্টার) হিসেবে ঘোষণা করে। এই জেলার সিভিল সার্জন, তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ এখানে কর্মরত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ সদস্যরাও অনেক বেশি সংখ্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনায় গত চার দিনে আক্রান্ত ২১৩ জন, মৃত্যু ৪ জন। আক্রান্তের সংখ্যা গত সপ্তাহের তুলনায় বেশি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৫ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৬০ জন। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩১ জনের। মাঝখানে কিছুদিন আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও গত চার দিনে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ২১৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা গত সপ্তাহের তুলনায় বেশি।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, গত এক সপ্তাহে সংক্রমণ কমে এলেও হঠাৎ আবার বাড়া শুরু হয়েছে। লকডাউন শিথিল ও স্বাস্থ্য নির্দেশনা না মানায় সংক্রমণ বাড়ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৪ মে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন, ওই দিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।

৫ মে করোনায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। করোনায় আক্রান্ত হন ২০ জন। ৬ মে কোনো মৃত্যু না হলেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ জন। ৭ মে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩৩ জন। ৮ মে আক্রান্ত হন ৬ জন। ৯ মে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ১ জনের, নতুন আক্রান্ত ৩৩ জন। ১০ মে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ২ জনের, নতুন আক্রান্ত ৮৬ জন। ১১ মে মারা যান ১ জন, আক্রান্ত ৪৭ জন। গতকাল ১২ মে মারা গেছেন ১ জন, আক্রান্ত আরও ৪৭ জন।

লকডাউন শিথিলে শহরের সব দোকানপাট খোলায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, শহরের দোকানপাট খোলা ও ফুটপাতে হকারদের যেভাবে বসা শুরু হয়েছে, তাতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে।

এর জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, মানুষকে ঘরে আটকে রাখার পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হবে। ব্যবসায়ীরা যদি মার্কেট না খোলেন, তাহলে লোকজন বের হবে না। তাই তাঁদের কাছে অনুরোধ, নিজেদের স্বার্থে সবাইকে লকডাউন মানতে হবে। নাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

মজিবুল হক, নারায়ণগঞ্জ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে