নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী বিক্ষোভে মমতা

0
316
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: রয়টার্স

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (ক্যাব) ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) বিরোধী প্রতিবাদ মিছিলে পথে নামছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়। আজ সোমবার দুপুরে কলকাতার রেড রোডে আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশ থেকে এই প্রতিবাদ মিছিল শুরু হবে। মিছিল শেষ হবে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে।

গণজাগরণের ডাক দিয়ে আজ থেকে তিন দিন পথে নামবেন মমতা। মিছিল থেকে তিনি রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং শান্তি বজায় রাখতে বার্তা দেবেন। কাল মঙ্গলবার দুপুরে মিছিল শুরু হবে দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরের এইট-বি বাসস্ট্যান্ড থেকে, শেষ হবে ধর্মতলার গান্ধীমূর্তির পাদদেশে। তৃতীয় দিন একই সময় হাওড়া ময়দান থেকে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হবে, শেষ হবে কলকাতার ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিংয়ে। ‘মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’—এই স্লোগানে তিন দিনই মাঠে থাকবেন মমতা।

এনআরসি-নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী প্রতিবাদ মিছিল করতে গিয়ে গত তিন দিনে একশ্রেণির বিক্ষোভকারী গোটা রাজ্যকে অশান্ত করে তুলেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে রাজ্যের বহু সরকারি সম্পত্তি। হামলা হয়েছে ট্রেনে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বহু রেলস্টেশন, টিকিট কাউন্টার, ভেঙে তছনছ করা হয়েছে রেলের সিগন্যাল ব্যবস্থা, ভাঙচুর করা হয়েছে বাস স্টপেজ, আগুন লাগানো হয়েছে বহু সরকারি বাস এবং ব্যক্তিগত গাড়িতেও। অবরোধ করা হয়েছে রাজ্যের বহু সড়ক। ব্যাহত হয়েছে গোটা রাজ্যের যানচলাচল। বাতিল করা হয়েছে অনেক দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল। এ কারণে রাজ্যজুড়ে অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য সরকার শান্তিপূর্ণভাবে ও গণতান্ত্রিকভাবে ক্যাব-এনআরসিবিরোধী আন্দোলন করার আহ্বান জানালেও তা হিংসায় পর্যবসিত হয়েছে।

রাজ্য সরকার অনুধাবন করতে পেরেছে, এই প্রতিবাদ করতে গিয়ে আখেরে ক্ষতি হয়েছে তৃণমূলেরই। সাধারণ মানুষও আন্দোলনের নামে রাস্তা, ট্রেন অবরোধকে মেনে নিতে পারেনি। বরং সাধারণ মানুষ এই ঘটনার জন্য কার্যত দায়ী করছে শাসক দলকে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা গতকাল রোববার রাতে কালীঘাটের তাঁর বাসভবনে রাজ্যের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব রাজীব সিংহ, স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র, রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা, রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জ্ঞানবন্ত সিং, কলকাতার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জাভেদ শামীম প্রমুখ।

এই বৈঠকেই মমতা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, এ পরিস্থিতির আগাম কোনো তথ্য তাঁদের কাছে ছিল কি না? কেনইবা পুলিশ কর্মকর্তারা জানতে পারেননি এ ধরনের কর্মসূচির কথা? এ সময় সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রতিটি থানাকে সজাগ থেকে নির্দেশ দেন মমতা। বিভিন্ন এলাকায় গন্ডগোলের আগাম খবর পেতে ভিলেজ পুলিশ এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজে লাগাতে হবে—এমন কথাও বলেন তিনি। তা ছাড়া সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে—এমন খবর এলে সেখানে কোনো সমাবেশ যাতে করা না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই বৈঠকে পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, তাঁদের কাছে খবর রয়েছে, আগামী কয়েক দিন মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ওই সংগঠনগুলো বড় ধরনের অশান্তি পাকানোর পরিকল্পনা করছে। যারা এই অশান্তি পাকানোর পেছনে ইন্ধন জোগাচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ধরনের প্ররোচনামূলক পোস্ট করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত তিন দিনে এই হামলার পেছনে কারা জড়িত, ভিডিও ফুটেজ দেখে তা শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে