নাগরিকত্ব বিল নিয়ে মমতার বৈঠক

0
199
মমতা ব্যানার্জি। রয়টার্স ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০ ডিসেম্বর নিজ দল তৃণমূল কংগ্রেসের সদর দপ্তরে দলীয় বিধায়ক-সাংসদ ও জেলা নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন। নাগরিকত্ব বিল আইনে পরিণত হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস কী করবে, এ বৈঠকে তা ঠিক করবেন তিনি। মমতা আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, নাগরিকত্ব সংশোধন বিল (ক্যাব) এবং নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন। তিনি এই লড়াইকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম বলে অভিহিত করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বলছেন পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি এবং ক্যাব হবে না, সেটা ওঁর অহংকারের প্রকাশ। এর নিন্দা করছি। কেন্দ্র কাউকে নাগরিকত্ব দিতে চাইলে কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তা আটকাতে পারবেন না। এ রাজ্য মমতার পরিবারের নয়, জনতার রাজ্য।

দলীয় সূত্র বলছে, ওই বৈঠকে মমতা নাগরিকত্ব বিল এবং এনআরসির বিষয়টি বিশদ ব্যাখ্যা করবেন। সেখানে রাজনৈতিক পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। আগামী বিধানসভা নির্বাচন এবং তার আগে পুরসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে নাগরিকত্ব বিলের মতো ‘সংবেদনশীল’ বিষয়ে কীভাবে কী বলতে হবে, কোন জেলায় কীভাবে চলতে হবে সব ওই বৈঠক থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। এর মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা ভোট কুশলি প্রশান্ত কিশোর নাগরিকত্ব বিল ও এনআরসিকে হাতিয়ার করে মাঠে নামার পরামর্শ দেবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে টুইট করেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি লিখেছেন, বলা হচ্ছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের মাধ্যমে নাকি শুধুমাত্র নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কারও কাছ থেকে তা কেড়ে নেওয়া হবে না। কিন্তু আসল সত্যটা হলো, এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সরকারের হাতে ভয়ংকর জোড়া অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে বৈষম্য তো বটেই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিচার করা যাবে। সংসদে বিল পাস হয়ে গেলেও হার মানছেন না বোঝাতে টুইটারে হ্যাশট্যাগ নটগিভিংআপও লেখেন তিনি।

প্রশান্ত কিশোরের এই মনোভাবই তৃণমূল কংগ্রেসকে পথ ঠিক করতে দিশা জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের দিঘায় বেঙ্গল বিজনেস কনক্লেভের শেষ দিনে মমতা বলেছেন, কেউ বলতে পারবে না এখানে সমস্যা রয়েছে। নিশ্চয়ই ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে কখনো কখনো। প্রতিটি পরিবারেই যেমন হয়। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু সমস্যা সেখানেই, যেখানে কেউ দরজা ধাক্কা দিয়ে বলবে বেরিয়ে যাও (গেট আউট, গেট আউট, গেট আউট)। ব্যবসা বন্ধ কর। আমরা এটা চাই না।

বাংলার মানসিকতা বুঝিয়ে মমতা আরও বলেন, আমরা সবাইকে ভালোবাসি। মানবিকতাই আসল পৃথিবী। সেটাই শান্তির জায়গা। কেউ সংখ্যালঘু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, শিখ, হিন্দু হতে পারেন। কেউ সাদা বা কালো হতে পারেন। কিন্তু সবার মানবিকতা থাকা দরকার।

লোকসভা এবং রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাস হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতায় উৎসব করেছে রাজ্য বিজেপি। বিজেপির রাজ্য দপ্তরের সামনে সভা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দলের নেতা-কর্মীরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে