নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ত্রিপুরায় বন্ধ ইন্টারনেট

0
197
বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের প্রতিবাদে জোরালো বিক্ষোভ হয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয়। ছবি: এএফপি

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন বিল ২০১৯-এর প্রতিবাদে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম, ত্রিপুরা ও মণিপুরে বিক্ষোভ চলছে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই। এবার চলমান বিক্ষোভের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ও এসএমএস সেবা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরা প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ ঘণ্টার জন্য এসব সেবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যে সহিংসতা বিস্তার ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, রাজ্য পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি সহিংস করে তোলা হতে পারে। এ কারণে মোবাইলে ইন্টারনেট সেবা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

টায়ার জ্বালিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। ছবি: এএফপ

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর রাজনৈতিক দলগুলোর বিক্ষোভে ত্রিপুরায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির অংশীদার ইনডেজেনিয়াস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (আইপিএফটি) সিক্সথ শিডিউলের আওতাধীন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) এলাকায় ধর্মঘট ডেকেছে। আইপিএফটি ত্রিপুরায় তুইপ্রাল্যান্ড নামে আলাদা রাজ্য দাবি করেছে। আইপিএফটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মঙ্গল দেববর্মা বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রকে বলেছি আমাদের রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল বাস্তবায়ন না করতে। বিলের বিরুদ্ধে এবং আলাদা রাজ্যের দাবিতে আমরা ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট ডেকেছি।’

এর আগে নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের প্রতিবাদে দিনভর আসামের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। ১১ ঘণ্টার জন্য ‘বন্‌ধ্‌’ ডাকা হয়েছিল, এতে কার্যত অচল ছিল গোটা রাজ্য। সচিবালয়ের সামনে স্লোগান দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের প্রতিবাদে দিনভর বিক্ষোভ করেন ত্রিপুরার জনগণ। ছবি: এএফপি

বেশ কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভকারীরা টায়ার পুড়িয়ে জাতীয় মহাসড়কগুলোয় অবরোধ সৃষ্টি করেছেন। পুলিশ সেগুলো সরিয়ে দিয়েছে। দিবরুগড় ও গুয়াহাটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করার চেষ্টাকালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ এ সময় লাঠিপেটা করে। কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক ও জরহাটে আসা পর্যটকেরা আটকা পড়েছেন। কারণ, এসব এলাকায় উড়োজাহাজ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ।

টানা সাত ঘণ্টা বিতর্ক শেষে গতকাল সোমবার রাত ১২টার পর ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাস হয়েছে। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ৩১১, বিপক্ষে ৮০। বিল পাসের জন্য দেওয়া ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংখ্যালঘুরা যাঁরা ধর্ম, প্রাণ ও সম্মান রক্ষার তাগিদে অত্যাচারিত হয়ে ভারতে চলে এসেছেন, তাঁদের সবাইকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। নাগরিকত্ব তাঁদেরই দেওয়া হবে, যাঁরা এই তিন দেশ থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে চলে এসেছেন। আগের আইন অনুযায়ী ১২ বছর ভারতে থাকলে কেউ নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী হতেন। সংশোধিত আইন অনুযায়ী সেই সময়সীমা কমিয়ে ছয় বছর করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে