নমুনা সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন অ্যাম্বুলেন্সচালক

0
96
করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে পৌঁছে দিচ্ছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. আলমগীর। গতকাল যশোর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে।

কাজটাতে ঝুঁকি আছে। কিন্তু ভয় পেলেন না তিনি। ভাবলেন, এই দুর্যোগে মানুষের সেবা করার জন্য তাঁর পক্ষে এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কী হতে পারে! তারপর করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের কাজে যুক্ত হয়ে গেলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. আলমগীর (৪৪)।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) গোলাম কিবরিয়াসহ দুজনের নমুনা সংগ্রহের কথা ছিল। কিন্তু ঝুঁকির কারণে একজন দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকৃতি জানান। তখন আলমগীরকে বলা হয় গোলাম কিবরিয়াকে সাহায্য করতে। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান তিনি। গত ৩ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। আলমগীর এ পর্যন্ত গোলাম কিবরিয়াকে ১৩০ জনের নমুনা সংগ্রহের কাজে সহায়তা করেছেন।

যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহিন বলেন, ‘আলমগীর সাহসী ও ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ। করোনাভাইরাসের এই সময়ে আমাদের অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালাতে হয়। আলমগীরকে যখন আমি এই কাজের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তিনি সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি জানিয়েছিলেন। এটা আমাদের বড় পাওয়া। সবাই এ রকম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে চান না। আলমগীর করতে চেয়েছেন। তিনি দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করছেন।’

ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছেন বলে গত ৩ এপ্রিল থেকে বাড়ি যাচ্ছেন না আলমগীর। থাকছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স রাখার গ্যারেজের দোতলার একটি কক্ষে।

মো. আলমগীর

মো. আলমগীর বললেন, ‘দায়িত্ব পাওয়ার পর এতটুকুও ভয় লাগেনি। আমার আত্মবিশ্বাস আছে। মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। আমার কিছু হবে না। পরিবারের সদস্যদের বোঝালাম। তাঁরা বুঝলেন। এরপর মায়ের অনুমতি নিয়ে কাজে নেমে পড়লাম।’ তিনি বলেন, সপ্তাহে ছয় দিন নমুনা সংগ্রহের কাজ করা হয়। তিনি নমুনা সংগ্রহের কাজে সহযোগিতা করেন। সংগৃহীত নমুনা দুপুর ১২টার মধ্যে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে পৌঁছেও দেন। তারপর সেখান থেকে আগের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

শুধু এই কাজ নয়, করোনাসংশ্লিষ্ট আরও অনেক কাজ করতে হয় আলমগীরকে। ঢাকা থেকে দুবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে করোনা পরীক্ষার কিট এনে দিয়েছেন।

আলমগীর জানালেন, এ ছাড়া সপ্তাহে অন্তত দুদিন জেলার এবং মাঝেমধ্যে অন্য জেলার করোনা পজিটিভ রোগীর নমুনা দিয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। আইইডিসিআরের কার্যালয়ে পৌঁছতে রাত ১১টা বেজে যায়। সেখানে নমুনাগুলো বুঝিয়ে দিয়ে মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় আসেন। সেখানে অ্যাম্বুলেন্সে ভেতরে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে যান। সেখান থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ করেন। এরপর যশোরের উদ্দেশে রওনা দেন।

আলমগীর বলেন, ‘দিনশেষে আমরা ধন্যবাদ পাই না, সবচেয়ে খারাপ লাগে এটা। প্রতিদিন সকালে কিটবক্সগুলো একজন সুইপার জীবাণুমুক্ত করে দেন। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে তাঁরও ভূমিকা আছে। সব স্বাস্থ্যসেবাকর্মীকে ধন্যবাদ দেওয়া হলে ভালো লাগত। তারপরও যত দিন করোনাভাইরাস থাকবে, তত দিন আমি এই সেবা দিয়ে যাব।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে