নতুন এক জীবন

0
287
নবীব নেওয়াজ জীবন।

কথা রেখেছেন নবীব নেওয়াজ জীবন। প্রিমিয়ার লিগে এবার তার লক্ষ্য ছিল ১৫ গোল। সেই লক্ষ্যকে ছাপিয়ে গেছেন ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের এ ফরোয়ার্ড। ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে তার নামের পাশে ১৭ গোল। লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হননি, তবে নতুন জীবন পেয়েছেন একসময় হারিয়ে যেতে বসা এ স্ট্রাইকার। শুধু জীবন নন, এই মৌসুমে দেশি ফরোয়ার্ডরা আগের চেয়ে তুলনামূলক ভালো করেছেন। বিদেশিদের সঙ্গে সমানতালে লড়েছেন জীবন। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার উঠেছে ২২ গোল করা শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের রাফায়েল ওদোইনের হাতে। তালিকায় দুইয়ে থাকা আবাহনীর সানডে সিজোবার গোল ২০টি। এর পরই আছেন জীবন। ১৭ গোল করা আবাহনীর এ ফুটবলারই দেশি ফরোয়ার্ডদের মধ্যে উজ্জ্বল ছিলেন।

গত মৌসুমে সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স করেছিলেন স্থানীয় ফরোয়ার্ডরা। তৌহিদুল আলম সবুজ করেছিলেন সর্বোচ্চ ৮ গোল। অথচ গতবারই বেশি সুযোগ ছিল দেশিদের সামনে। কোটা প্রথায় বিদেশি খেলোয়াড় তিন থেকে দুইয়ে নামানো হয়েছিল; কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি জীবনরা। এবার চার বিদেশি খেলালেও নিজেদের আলাদা করে ছিনিয়েছেন মতিন মিয়া-তকলিসরা। এবার শুধু জীবন নন, মতিন মিয়া, মানাফ রাব্বি, তকলিস আহমেদও প্রতিপক্ষের জালে তুলনামূলক বেশিবার বল পাঠিয়েছেন। শুরুতে বেঞ্চে বসে থাকা বসুন্ধরা কিংসের মতিন মিয়া এবার করেছেন ১১ গোল। ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলা মানাফ রাব্বি ৮টি এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের তকলিস আহমেদ জাল খুঁজে পেয়েছেন সাতবার।

সবার চেয়ে এবার নিজেকে আলাদা করে চিনিয়েছেন জীবন। গত মৌসুমে সবুজের দ্বিগুণ গোল করা আবাহনীর এ তারকা এবারও শুরুর দিকে সাইড বেঞ্চে বসে ছিলেন। ফেডারেশন কাপ এবং স্বাধীনতা কাপে ব্যর্থ হওয়ার পর লিগের জীবনের শুরুটা ছিল যাচ্ছেতাই। প্রথম ম্যাচে অনেক মিস করেছিলেন। তবে তাকে উৎসাহ দিতে থাকেন কোচ মারিও লেমোস। জাতীয় দলে কাজ করায় জীবনের সঙ্গে সম্পর্কটা ভালো হয় লেমোসের। তিনিই জীবনকে নতুন ‘জীবন’ দেন!

গতকাল জীবন বলেন, ‘আগে দলে সুযোগ পেতাম না। কিন্তু লেমোস আসার পরই আমার সেরাটা তিনি বের করেন। তিনি আসার পর আমাকে বললেন তুমি দ্বিতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে খেলবে এবং ১৪টি গোল করবে। তার কথার পরই আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আমি এবার ১৭ গোল করেছি।’ প্রিমিয়ার লীগে দেশিদের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করেছিলেন এনামুল হক; ২১টি। আগামী মৌসুমে তাকে ছাড়িয়ে যেতে চান জীবন।

বসুন্ধরা কিংসে ছিলেন রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলা কোস্টারিকান ফরোয়ার্ড ড্যানিয়েল কলিনড্রেস, ব্রাজিলের মার্কোস ভিনিসিয়াসের মতো তারকারা। বিদেশি তারকাদের সঙ্গে নিজেকে আলাদাভাবে চিনিয়েছেন মতিন মিয়া। রাজমিস্ত্রি থেকে ফুটবলার হওয়া মতিন জানালেন তার গোল করার রহস্য, ‘আসলে টেকনিক্যালি আগের চেয়ে অনেক ভালো আমরা। প্রথমে গোল করতে পারিনি। সাইড বেঞ্চেও বসে ছিলাম। কিন্তু কোচ সুযোগ দেওয়ার পর কাজে লাগিয়েছি। এর পর থেকেই দলে নিয়মিত খেলি। আত্মবিশ্বাসটাও বেড়ে গেছে। যার কারণে গোলও পেয়েছি।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে