দেশে ফিরতে চান পি কে হালদার

0
46
ভারতে গ্রেপ্তার পিকে হালদার

প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ভারতে পালানো প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার এখন দেশে ফিরতে চান। ভারতে গ্রেপ্তারের পর তিনি এখন তিন দিনের রিমান্ডে আছেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দফায় দফায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তবে রোববার প্রথম দিনের রিমান্ডের পর আজ সোমবার তিনি অনেকটাই সামলে উঠেছেন। এদিকে, তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে বলে দাবি করেছেন তিনি।

আজ সোমবার মেডিকেল চেকআপের পর পশ্চিমবঙ্গে ইডি কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সমকালের পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি শুভজিৎ পুততুন্ড। তিনি জানান, পি কে হালদার এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যে। আমি দেশে ফিরতে চাই।

হেফাজতে থাকা আসামিদের প্রতি ২৪ ঘণ্টায় চেকআপ করা বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম অনুযায়ী আজ পি কে হালদারের মেডিকেল চেকআপ করা হয়। চেকআপ শেষে ইডি কার্যালয়ে ফেরার পথে তাকে অনেকটাই সুস্থ দেখা গেছে।

ইডি সূত্রে জানা গেছে, আজ দিনভর জেরা করা হবে পি কে হালদারকে। ইডি’র একাধিক কর্মকর্তা ইতোমধ্যে কার্যালয়ে হাজির হয়েছেন।

পি কে হালদার এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। গত শনিবার তাকে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। ইডি জানিয়েছে, পি কে হালদার নাম পাল্টে সেখানে আত্মগোপন করে ছিলেন।

গতকাল রোববার সকালে পি কে হালদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন কলকাতার নগর দায়রা আদালত। এর ফলে তাকে রিমান্ড হেফাজতে পায় ইডি। তদন্ত কর্মকর্তাদের জেরার মুখে দফায় দফায় কান্নায় ভেঙে পড়েন পি কে হালদার।

শনিবার ইডি আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরমধ্যে চারজন বাংলাদেশি। তারা হলেন- প্রীতিশ কুমার হালদার ও তার স্ত্রী (নাম জানা যায়নি), উত্তম মিত্র ও স্বপন মিত্র। এছাড়া প্রণব হালদার নামে এক ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করে ইডি। প্রণব সেখানে সরকারি চাকরি করেন। পরে সঞ্জীব হালদার নামে একজনকে আটক করার কথা জানায় ইডি। তিনি গ্রেপ্তার সুকুমার মৃধার জামাই।

গত শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের অন্তত নয়টি স্থানে একযোগে অভিযান চালায় ইডি। এতে কয়েকটি অভিজাত বাড়িসহ পি কের বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। বাড়িগুলো থেকে জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথি জব্দ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে পি কে হালদারের ২০ থেকে ২২টি বাড়ি আছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে। তাকে গ্রেপ্তার করতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে