দেশি পেঁয়াজেই চাহিদা মিটবে

0
372
পাবনায় বাজারে উঠেছে নতুন পেঁয়াজ।

সরকারি হিসাবে এ বছর এক কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ১৫ টাকা। তবে পেঁয়াজ ওঠার সময় (ফেব্রুয়ারি–মার্চ) ছিল অতিবৃষ্টি। ফলে ওই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেননি কৃষক। প্রতি কেজি আট থেকে দশ টাকায় বিক্রি করে দেন তাঁরা। কম দামে ওই পেঁয়াজ কিনে নেন ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এখন ওই পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে মজুত কমে আসার কথা বলছেন। তাঁরা বলছেন, বিদেশ থেকে অনেক বেশি দামে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। তাই দাম বেশি। কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, অতিবৃষ্টির পরেও দেশে এ বছর ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। এ বছর বিদেশ থেকে আনতে হবে প্রায় ১১ লাখ টন, যার মধ্যে দুই লাখ ৩০ হাজার টন মাত্র দেশে এসেছে। এখনো বাজারে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ পেঁয়াজ দেশি। ফলে ওই কম দামে কেনা পেঁয়াজ বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফা করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও গবেষকেরা বলছেন, এ বছরের ফেব্রুয়ারি–মার্চে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে অতিবৃষ্টির কারণে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার পর এই জনপ্রিয় কৃষিপণ্যটির ঘাটতি হতে পারে, তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। ফলে সংকট মোকাবিলায় সরকারের উচিত ছিল আগেভাগে পেঁয়াজ আমদানির ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। আলোচনা করে তাদের আমদানির ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়। এবার তা করা হয়নি। ফলে বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দেওয়ার পর দ্রুত দাম বেড়ে যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা এখন যে পেঁয়াজ বিক্রি করে অতি মুনাফা করেছেন, তা বল প্রয়োগ করে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। সরকার যদি দর বেঁধে দিয়ে বলে এই দামে বিক্রি করতে হবে, তাহলে ওই পণ্যটি বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়ে দাম আরও বাড়বে। সরকার এখন যা করছে, বিদেশ থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করছে, সেটাই সঠিক পথ। কিন্তু তা দুই মাস আগে থেকে করা উচিত ছিল। তাহলে এই সংকট দেখা দিত না। এ ধরনের একটি পণ্যের যে সংকট হবে, তা সরকারের সংস্থাগুলো আগে থেকে পূর্বাভাস দিয়ে উদ্যোগ কেন নিল না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রংপুরে পেঁয়াজ খেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত এক নারী।

ফারাক মাত্র দুই লাখ টন
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের গবেষণা প্রতিবেদনে দেশে পেঁয়াজ নিয়ে আরেক সংকটের বিষয় উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ফারাক মাত্র দুই লাখ টনের। বছরে দেশে পেঁয়াজ হয় ২৩ লাখ টনের ওপরে। আর চাহিদা রয়েছে ২৪ থেকে ২৫ লাখ টনের। তারপরও শুধু নষ্ট হওয়ার কারণে বছরে আট থেকে দশ লাখ টন পেঁয়াজ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এ বছর বিদেশ থেকে আনতে হবে আরও বেশি। কারণ দেশে উৎপাদিত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়। পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য যে আধুনিক তাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা থাকা দরকার, তা সরকারি-বেসরকারি কোনো পর্যায়ে নেই।

যেখানে ভারত, চীন, মিসরের পেঁয়াজ দুই থেকে তিন মাসের বেশি সংরক্ষণ করা যায় না। সেখানে বাংলাদেশের পেঁয়াজ পাঁচ থেকে সাত মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। মার্চে বাংলাদেশের মাঠ থেকে পেঁয়াজ ওঠা শুরু হওয়ার পর তা নভেম্বর পর্যন্ত বাজারে বিক্রি হয়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূলত বিদেশি আমদানি পেঁয়াজের ওপরে নির্ভর করে দেশের বাজারের চাহিদা মেটানো হয়।

ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকেরা ওই পেঁয়াজ দ্রুত বাজারে বিক্রি করে দেন। বড় কৃষকেরা তাঁদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলেও তা বেশি দিন রাখা যায় না। দেশে চাল ও গম সংরক্ষণের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুর গুদাম রয়েছে। আলু রাখার জন্য রয়েছে হিমাগার। কিন্তু পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এখন পর্যন্ত দেশে কোনো হিমাগার বা সংরক্ষণাগার গড়ে ওঠেনি। ফলে সংরক্ষণের সময় অতিবৃষ্টি হলে পেঁয়াজে ছত্রাক লেগে এবং শিকড় গজিয়ে তা দ্রুত তা নষ্ট হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও গবেষক হ‌ুমায়ূন কবির বলেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণের গুদামঘরটিতে ঠান্ডা ও বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। মাঝেমধ্যে গুদামঘর পরিষ্কার করে পচা ও রোগাক্রান্ত পেঁয়াজ বেছে সরিয়ে ফেলতে হবে। ঠান্ডা গুদামঘরে তাপমাত্রা হতে হবে ৩৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং ৬৪ শতাংশ আর্দ্রতাযুক্ত হতে হবে। কাঁচা পেঁয়াজ কাগজের ব্যাগে ছিদ্র করে রেখে তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। তবে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক উন্নত পদ্ধতি হলো ‘জিরো এনার্জি স্টোরেজ’ পদ্ধতি। মূলত বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ওই স্টোরেজ তৈরি করা হয়।

কারওয়ান বাজারে আসতে শুরু করেছে পাতাসহ নতুন পেঁয়াজ।

অতিবৃষ্টি ও সংরক্ষণের অভাব, এবার নষ্ট ৪০ শতাংশ
বারির পেঁয়াজ নিয়ে করা ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া ব্যতিক্রম। পেঁয়াজ মূলত শীতপ্রধান অঞ্চলের ফসল। এটি উৎপাদন করতে হলে কমপক্ষে তিন থেকে চার মাস নিরবিচ্ছিন্ন শীত থাকতে হয়। অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে হয়। তার চেয়ে কম থাকলে ভালো। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ হয় চীনে, তারপর ভারতে। এর পরেই রয়েছে যথাক্রমে মিসর, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, তুরস্ক, রাশিয়া ও পাকিস্তান। মোট উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ওই দেশগুলোর পরেই, অর্থাৎ নবম।

কিন্তু প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাত ও গড় তাপমাত্রা বেশি। এখানে বছরে মাত্র তিন মাস পেঁয়াজ উৎপাদনের উপযোগী আবহাওয়া থাকে। কিন্তু গুণগত মান ও সংরক্ষণ যোগ্যতার দিক থেকে বাংলাদেশের পেঁয়াজ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয়। যেখানে ভারত, চীন, মিসরের পেঁয়াজ দুই থেকে তিন মাসের বেশি সংরক্ষণ করা যায় না। সেখানে বাংলাদেশের পেঁয়াজ পাঁচ থেকে সাত মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। মার্চে বাংলাদেশের মাঠ থেকে পেঁয়াজ ওঠা শুরু হওয়ার পর তা নভেম্বর পর্যন্ত বাজারে বিক্রি হয়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূলত বিদেশি আমদানি পেঁয়াজের ওপরে নির্ভর করে দেশের বাজারের চাহিদা মেটানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর হিসাবে, বিশ্বের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে হেক্টরপ্রতি সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ হয় যুক্তরাষ্ট্রে, প্রায় ৫৭ হাজার টন। চীনে তা ২২ হাজার টন, ভারতে ১৬ হাজার টন এবং মিসরে ৩৬ হাজার টনের ওপরে। আর বিশ্বে গড়ে হেক্টরপ্রতি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় ২০ হাজার টন। কিন্তু বাংলাদেশের পেঁয়াজের গড় উৎপাদন এখনো ৯ হাজার ৭৭৭ টনে রয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশে পেঁয়াজের উৎপাদন প্রতিবছর ২ শতাংশ হারে বাড়ছে। আর হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাড়ায় মোট উৎপাদন খরচ কমছে ৮ শতাংশ হারে।

অন্যদিকে চীন, ভারত, উজবেকিস্তান, মিসরসহ আরও কিছু দেশে দুই-তিন মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ হয়। কিন্তু আমাদের দেশে শুধু রবি মৌসুমেই পেঁয়াজ চাষ হয়। সনাতনপদ্ধতিতে সংরক্ষণের ফলে প্রতিবছর উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ পর্যায়ে মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়। সে হিসাবেও ৭ থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়। মাঠ থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহের উপযুক্ত সময় হলো ফেব্রুয়ারি-মার্চ। কিন্তু এ বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে দেশের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, রাজশাহী ও ঝিনাইদহে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে।

অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় নিচু ও মাঝারি নিচু, মাঝারি উঁচু জমিতে পানি জমে যায়। ফলে ভেজা পেঁয়াজ জমি থেকে তুলে ফেলতে হয়। এতে পেঁয়াজে জলীয় অংশের পরিমাণ বেড়ে যায়। শুধু চলতি বছর অতিবৃষ্টির কারণে বাড়তি ১ লাখ ১৬ হাজার টন পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। আর স্বাভাবিকভাবে প্রতিবছর উৎপাদিত পেঁয়াজের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ নষ্ট হয়। আর এবার সব মিলিয়ে ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে।

পেঁয়াজ বাছাইয়ের কাজে ব্যস্ত শ্রমিকেরা।

জমি কমছে, উৎপাদন বাড়ছে, তবু পিছিয়ে
দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের অর্ধেক আসে স্থানীয় জাতের পেঁয়াজ থেকে। তাহেরপুরী, ঝিটকা ও ফরিদপুরী নামের ওই সব পেঁয়াজের আকৃতি অবশ্য বেশ ছোট। এর হেক্টরপ্রতি উৎপাদন সাত থেকে আট হাজার টন। আর বারির বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন ছয় জাতের পেঁয়াজ। এগুলোর উৎপাদন প্রতি হেক্টরে উৎপাদন ১০ থেকে ১১ টন। বেসরকারি বীজ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান লাল তীর থেকে লাল তীর কিং, লাল তীর হাইব্রিড এবং লাল তীর ২০ জাতের পেঁয়াজের বীজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ১২ থেকে ১৩ হাজার টন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর হিসাবে, বিশ্বের প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে হেক্টরপ্রতি সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ হয় যুক্তরাষ্ট্রে, প্রায় ৫৭ হাজার টন। চীনে তা ২২ হাজার টন, ভারতে ১৬ হাজার টন এবং মিসরে ৩৬ হাজার টনের ওপরে। আর বিশ্বে গড়ে হেক্টরপ্রতি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় ২০ হাজার টন। কিন্তু বাংলাদেশের পেঁয়াজের গড় উৎপাদন এখনো ৯ হাজার ৭৭৭ টনে রয়ে গেছে। তবে বাংলাদেশে পেঁয়াজের উৎপাদন প্রতিবছর ২ শতাংশ হারে বাড়ছে। আর হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাড়ায় মোট উৎপাদন খরচ কমছে ৮ শতাংশ হারে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বারির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার বলেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে। তবে তার আগে উৎপাদিত পেঁয়াজ যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মেহেরপুর জেলায় ভারতের সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজ আবাদ হয়। এর গড় ফলন হেক্টরে ৩৫ থেকে ৪০ মেট্রিক টন। কিন্তু এই জাতের পেঁয়াজের সংরক্ষণক্ষমতা কম থাকায় জাতটি কৃষক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

সাধারণত স্থানভেদে এক একর পেঁয়াজ আবাদ করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। সংগ্রহোত্তর মৌসুমে এক একর পেঁয়াজ থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। তবে যথাযথ সংরক্ষণ করা গেলে অন্য মৌসুমে আরও বেশি মুনাফা করা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, গত এপ্রিল-মে মাসে যখন কৃষক সাত-আট টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছিল, তখন সরকার চাষিদের পাশে দাঁড়ায়নি। অথচ বন্যায় যেসব ধানচাষি বা মাছচাষিদের ক্ষতি হয়, তাঁদের সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হয়। দুই লাখ পেঁয়াজচাষি তা পান না। এখন বিদেশ থেকে শত কোটি টাকা বাড়তি দাম দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।

আনোয়ার ফারুক বলেন, পেঁয়াজের এ ধরনের সংকট দূর করতে হলে আগে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। ফসল ওঠার সময়ে, অর্থাৎ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত দেশে পেঁয়াজ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাঁদের জন্য শূন্য সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। নয়তো এবার ভালো দাম পেয়ে কৃষক আগামী বছর উৎপাদন ঠিকই বাড়াবেন। কিন্তু ফসল ওঠার সময়ে যদি আমদানি পেঁয়াজ এসে বাজার সয়লাব করে ফেলে, তাহলে তাঁরা আবার আগ্রহ হারাবেন। আর ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার সুযোগ পাবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে