দুর্দান্ত ম্যাচ শেষে ইউক্রেনের হাসি

0
53
৮ বছর পর ইউরোতে জয় পেল ইউক্রেন।ছবি: রয়টার্স
পেনাল্টি ঠেকিয়েও গোল বাঁচাতে পারলেন না গোলকিপার বুশচান।

পেনাল্টি ঠেকিয়েও গোল বাঁচাতে পারলেন না গোলকিপার বুশচান।  ছবি: রয়টার্স

ম্যাচের ৫৬ মিনিট ধরে যে নাটক হলো, তার তুলনা পাওয়া ভার। প্রথমে কর্নার থেকে বল পেয়ে আলেক্সান্দর ট্রেইকোভস্কি গোলা ছুড়লেন একটা। বুশচান এর চেয়েও দুর্দান্ত এক সেভে বলটাকে জালে ঢুকতে দিলেন না। ইউক্রেন গোলকিপারের গ্লাভসের ছোঁয়া নিয়ে বল ক্রসবার ছুঁয়ে নামল পোস্টের সামনেই। সুযোগসন্ধানী মেসিডোনিয়ান স্ট্রাইকার পানদেভ বলটা ধরতে গেলেন। ওদিকে বল ক্লিয়ার করতে যাওয়া কারাভায়েভ না দেখে মারতে গিয়ে পানদেভের পায়ে লাথি মেরে বসলেন। পেনাল্টি!

দারুণ খেলেও পয়েন্ট না পাওয়ার হতাশা উত্তর মেসিডোনিয়ার।

দারুণ খেলেও পয়েন্ট না পাওয়ার হতাশা উত্তর মেসিডোনিয়ার। ছবি: রয়টার্স

পেনাল্টিতেও কত নাটক। আলিওস্কি বাঁ পোস্টের দিকে পেনাল্টি নিয়েছিলেন। একটু আগেই দারুণ সেভ করা বুশচান বাঁ দিকে ঝাঁপ দিলেন। বল তাঁর হাতে লেগে ফিরল। কিন্তু হতাশায় ডোবার আগেই নিজের কাছে বল পেয়ে গেলেন আলিওস্কি। এবার আর ভুল করেননি। ভারসাম্য হারাতে হারাতেই শট নিলেন। এবার বল ঠিকই জালে। গোল। মেসিডোনিয়া ১-২ ইউক্রেন।

পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়েছেন স্তল দিমিত্রিভস্কি।

পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়েছেন স্তল দিমিত্রিভস্কি। ছবি: রয়টার্স

৮২ মিনিটে আবার নাটক। এবার পেনাল্টি পেল ইউক্রেন। মালিনোভস্কির ফ্রি-কিকে লাফ দিয়েছিলেন মানবদেয়ালের অংশ আভ্রামোভস্কি। ভিএআর মনিটরে বেশ কিছুক্ষণ সেটা দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। পেনাল্টি নিতে এগিয়ে এলেন রাসলান মালিনোভস্কিই। বেশ জোরের সঙ্গেই মেরেছিলেন। কিন্তু ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়া স্তল দিমিত্রিভস্কি ঠিকই ঠেকিয়ে দিলেন সে শট! ম্যাচের মীমাংসা হতে হতেও হলো না। উত্তেজনা টিকে রইল শেষ মিনিট পর্যন্ত।

পানদেভের এই গোল বাতিল করেছে ভিএআর।

পানদেভের এই গোল বাতিল করেছে ভিএআর। ছবি: রয়টার্স

দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই দাপটের সঙ্গে খেলেছে মেসিডোনিয়া। প্রথমার্ধে দারুণ এক গোল করার পরও ভিএআরের কারণে পানদেভ বাতিল হতে দেখেছেন সে গোল। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর বাঁশি বাজতে না বাজতেই দুঃখ ভুলে যেতে পারত মেসিডোনিয়া। আরিয়ান আদেমির শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছেন বুশচান। দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময়টাও ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ইউক্রেনের গোলকিপারকে। যোগ করা সময়েও তাঁকে চাপে রেখেছে মেসিডোনিয়া। তাঁর রক্ষণের স্নায়ুচাপে ভোগাও এতে কম প্রভাব রাখেনি। কিন্তু প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের দাপটই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পেলেন ইয়ারমোলেঙ্কো

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পেলেন ইয়ারমোলেঙ্কো, ছবি: রয়টার্স

দর্শকদের উৎসাহ নিয়ে খেলতে থাকা ইউক্রেনের দাপট দেখাতে একটু সময় লেগেছে। দশ মিনিটের মধ্যেই দিমিত্রিভস্কিকে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছে দলটি। যদিও গোল পেতে পেতে ২৯ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে শেভচেঙ্কোর শিষ্যদের। ৫ মিনিটের মধ্যে পাওয়া দুই গোলই সাবেক স্ট্রাইকার শেভচেঙ্কোকে তৃপ্তি দেওয়ার মতো। ২৯ মিনিটে কর্নার থেকে গোলের ছয় গজের মধ্যে নিজেকে ফাঁকায় পেয়ে গেলেন আন্দ্রি ইয়ারমোলেঙ্কো, ইউক্রেন ১-০ উত্তর মেসিডোনিয়া।

শেভচেঙ্কোর সঙ্গে গোল উদ্‌যাপন ইয়ারেমচুকের।

শেভচেঙ্কোর সঙ্গে গোল উদ্‌যাপন ইয়ারেমচুকের। ছবি: রয়টার্স

পাঁচ মিনিট পর ইয়ারমোলেঙ্কোর পাস থেকেই এল দ্বিতীয় গোল। বক্সে ঢুকে পড়েন রোমান ইয়ারেমচুক। সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডার ও আগুয়ান গোলকিপারকে পাত্তা না দিয়ে কাছের পোস্তেই বল পাঠিয়ে দিয়েছেন ইয়ারেমচুক। গোল উদ্‌যাপন করতে কোচের কাছেই ছুটে গিয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার। ৪০ মিনিটে দিমিত্রিভস্কি মেসিডোনিয়াকে তৃতীয় গোল খাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছেন দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে